মধ্যরাতের কলকাতায় পুলিশের জালে আটক পাঁচ ‘সিবিআই’ কর্তা! 

পাঁচ জন সিবিআই অফিসারকে গ্রেপ্তার করলো ইকো পার্ক থানার পুলিশ। না, ঘাবড়াবেন না এরা জেসে সিবিআই অফিসার নয়। এরা মুখে ‘সিবিআই'(Central bureau of investigation), কার্ডে ‘সিআইবি’।
ওই পথ দিয়েই তখন যাচ্ছিল ইকোপার্ক থানার নৈশ টহলদারি গাড়ি। মাঝরাতে জটলা দেখে থেমে যান টহলদারি অফিসার। সব শুনে ওই পাঁচজনের কাছে তাঁদের আইডেন্টিটি কার্ড দেখতে চান। যাঁদের পকেট থেকে বেরিয়ে আসে আই-কার্ড। কার্ডে লেখা, সিআইবি-ক্রাইম ইন্টেলেজেন্স ব্যুরো  (CIB -Crime Investigation Bureau)।

এবার প্রশ্ন হচ্ছেন ঘটনা কি? গতকাল রাতে নিউটাউনের আকাঙ্খা মোড়ে গরু-বোঝাই একটি গাড়ির পথ আটকে দাঁড়ায় একটি ইনোভা গাড়ি। বলিউডি স্টাইলে গাড়ি থেকে নেমে আসে পাঁচজন সিবিআই কর্তা। যাঁদের একজনের হাতে ওয়াকিটকি। নেমেই হম্বিতম্বি শুরু গরু-বোঝাই গাড়িটির চালক এবং খালাসির উপর, ‘আমরা সিবিআই অফিসার। আপনাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র আছে রাত্রে এভাবে যাতায়াতের?’

এরপর লোক দেখানো তল্লাশি এবং মোটা অঙ্কের টাকার দাবি। এবং দাবি না মেটালে গ্রেফতার করা ও বড় কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি। 'সিবিআই' শুনে শুরুতে বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিলেন গাড়ির চালক। তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার সাহস হয়নি। কিন্তু গাড়ির বৈধ কাগজপত্র যেহেতু সঙ্গে ছিল, টাকা দিতে সোজাসুজি অস্বীকার করেন। শুরু হয় দু'পক্ষের তর্কাতর্কি।

এরপর শুরু হয় লোক দেখানো তল্লাশি এবং মোটা অঙ্কের টাকার তোলা দাবি। এবং দাবি না মেটালে গ্রেফতার করা ও বড় কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি। ‘সিবিআই’ শুনে গলদঘর্ম দশা গাড়ির চালকের। তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার সাহস হয়নি। কিন্তু গাড়ির বৈধ কাগজপত্র যেহেতু সঙ্গে ছিল, তাই টাকা তিনি দেবেন না। টাকা না পেয়ে যথারীতি সিবিআই অফিসাররা হম্বিতম্বি শুরু করেন। শুরু হয় দু’পক্ষের ব্যাপক তর্কাতর্কি।

ভাবেনি, বাড়া ভাতে ছাই পড়বে থানার রাত্রিকালীন টহলে।

কিন্তু কাল হলো ইকোপার্ক থানার নৈশ টহলদারি গাড়ি উদয় হ‌ওয়ায়। মাঝরাতে জটলা দেখে থেমে যান টহলদারি অফিসার। সব শুনে ওই পাঁচজনের কাছে তাঁদের আইডেন্টিটি কার্ড দেখতে চান। যাঁদের পকেট থেকে বেরিয়ে আসে আই-কার্ড। কার্ডে লেখা, সিআইবি-ক্রাইম ইন্টেলেজেন্স ব্যুরো (CIB -Crime Investigation Bureau)

সিআইবি? সেটা আবার কোন সংস্থা? দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন কোনও সরকারি তদন্তকারি সংস্থার নাম কস্মিনকালেও শোনেননি থানার অফিসার। সন্দেহ হওয়ায় থানায় নিয়ে আসা হয় ওই পাঁচজনকে। এবং আধঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদেই পর্দাফাঁস।
পুলিশের জালে সিবিআই কর্তারা, থুড়ি ভেকধারী প্রতারকেরা।
যাইহোক অভিযুক্তরা আপাতত জেল হেফাজতে। চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, জানতে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট

RELATED Articles