গত ২২ জুলাই পৃথিবী ছেড়ে চাঁদের পথে পা বাড়িয়েছিল চন্দ্রযান – ২। এরপরই সেপ্টেম্বর মাসের গত ৭ তারিখে গভীর রাতে চাঁদে অবতরণের কথা ছিল বিক্রম ল্যান্ডারের। কিন্তু চন্দ্রপৃষ্ঠের ২.১ কিমি উচ্চতায় থাকার সময়ই ইসরোর কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিক্রম ল্যান্ডারের। ফলে অনেকেই মন্তব্য করেন যে ভারতের চন্দ্রযান অভিযান ব্যর্থ। কিন্তু তা একবারেই মানতে রাজি নন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
Check out best Bengal Football website
ইসরোর বিজ্ঞানীদের মতে এই মিশনের ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে। কারণ ইসরোর বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও দারুণ কাজ করে চলেছে চন্দ্রযান – ২ এর অরবিটারটি। চাঁদের থেকে ১০০ কিলোমিটার ওপরে নিরাপদ এক কক্ষপথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে অরবিটারটি। চাঁদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য এই অরবিটারে রয়েছে আটটি অত্যাধুনিক গাজেট। আর এই আটটি গ্যাজেটই সঠিক ভাবে কাজ করাই ইতিমধ্যেই অরবিটারটি ইসরোর কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে শুরু করেছে চাঁদ সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ছবি।
কাজেই বিক্রম এবং প্রজ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার পরও ইসরোর বিজ্ঞানীরা জারি রেখেছেন চন্দ্রযান ২ অভিযান । আরও সাত বছর ধরে অরবিটারটি চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে চাঁদের খনিজ পদার্থের খোঁজ চালাবে, তৈরী করবে দক্ষিণ মেরুর মানচিত্র। ইসরোর বিজ্ঞানীদের আশা অরবিটারটি আরও টানা সাত বছর চাঁদের চারপাশে ঘুরতে থাকলে চাঁদ সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাওয়া যাবে, খোঁজ চালানো হবে চাঁদে থাকা জমা জল এবং বরফেরও। ইতিমধ্যেই আবার এই অরবিটারের মাধ্যমেই খোঁজ মিলেছে চন্দ্রপৃষ্ঠে বিক্রম ল্যান্ডারের,যদিও এখনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। কাজেই বলা যায় যে ইসরোর চন্দ্রযান ২ মিশন মোটেই পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি উল্টে তা ফের পুরোপুরিভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।






