গত বছরের স্মৃতি উস্কে ফের দেশে ব্যাপক আকার নিয়েছে অণুজীবাণুটি। আর তাই টাটকা হচ্ছে আগের বছরের স্মৃতি গুলো।
ফের জনমানবহীন রাস্তাঘাট, ফের বন্ধ দোকানের ঝাঁপ। আবার নিজেদেরকে ঘরে গুটিয়ে নিচ্ছে বঙ্গবাসী। গৃহবন্দি জীবনে ফিরছে সবাই। এক অদ্ভুত অসুখের সঙ্গে আজ দেড় বছর ধরে লড়াই চলছে। কখনও মানুষ জিতছে কখনও জীবাণু। কিন্তু এই রোজকার খেলায় হারাচ্ছে লক্ষাধিক প্রাণ।
আরও পড়ুন- কোভ্যাকসিন নাকি কোভিশিল্ড? কোনটা বাছবেন? কোন টিকা বেশি কার্যকরী? পড়ে নিন
আর সেই জন্যই গতকাল নতুন নির্দেশিকা জারি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় সবকিছু। হাট বাজার খোলা থাকছে সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। আবার খুলেছে দুপুর ৩টে নাগাদ। বন্ধ হয়ে যাবে বিকেল ৫টায়। এটাই সরকারি নির্দেশ। অনেকে বলছেন আংশিক লকডাউনে সাধারণ মানুষ খুব একটা সমস্যার মুখে পড়বেন না। পুরোপুরি লকডাউন করলে অনেক ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের।
নিউটাউনের অন্যতম বড় বাজার হলো গৌরাঙ্গনগর বাজার ও জ্যোতিনগর বাজার। রোজ সকালে এই বাজারে থাকে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু আজ ছবি টা আলাদা। বাজারে এসেছেন খুব অল্প সংখ্যক ক্রেতা। বিক্রেতারা দোকান খুললেও সেভাবে নেই ক্রেতা।
সকাল থেকেই নিউটাউন থানার পুলিশ মাইকিং করে গিয়েছে এই সব বাজারগুলিতে। যাতে সময়ের মধ্যেই গুটিয়ে ফেলা যায় সবকিছু।
তবে সচেতনতার অভাবও চোখে পড়ল। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও লাঠি হাতে, কোথাও মাইকিং করে মানুষকে সরাল পুলিশ। কারণ সময় হয়ে গিয়েছে। সকাল ১০টা পার হয়ে যাওয়ার পরও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেল বাজারে ঘুরছেন মানুষজন, সব্জি নিয়ে বসে রয়েছেন বিক্রেতারা। তাই শুরু হল পুলিশি তৎপরতা।
আরও পড়ুন- এবার বন্ধ হচ্ছে যান চলাচল, বাস-মিনিবাস বন্ধ থাকবে টানা তিনদিন
পূর্ব লকডাউন-এর স্মৃতি উস্কে ফের খাবার মজুদ করার ছবিও দেখা গেল। আংশিক লকডাউনের প্রথম দিনেই বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল সকালে। তা দেখে পুলিশের তরফ থেকে মাইকিং করা হয়। যাতে ১০টা বাজলেই কেস্টপুর মিশন বাজারের সমস্ত দোকান বন্ধ করা হয়। ১০টা বেজে গেলেও বাজারে ভিড় না কমায় পুলিশের তরফ থেকে আবারও মাইকিং করা হয়।
সেই সঙ্গে সরকারি নির্দেশ অমান্য করা মানুষদের উদ্দেশ্যে লাঠি উঁচিয়ে ধমক দিল পুলিশ। উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে আংশিক লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে জিম, সুইমিং পুল, শপিং মল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, রেস্তোরাঁ, বার। আর সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং দুপুর ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত বাজার খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। যদিও আজ দেখা গেল সকাল ১০টার পর বিভিন্ন জায়গায় বাজারগুলি খোলা। শেষমেশ পুলিশ গিয়ে সেই বাজার বন্ধ করে।





