আজ বেলার মধ্যেই দিঘার বুকে আছড়ে পড়তে পারেন ঘূর্ণিঝড় যশ। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলাতে নামানো হয়েছে সেনা। দিঘাতে হারি হয়েছে লাল সতর্কতা। জানা গিয়েছে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রায় সাত লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দিঘা থেকে আর মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে যশ। ইতিমধ্যেই, ধামড়ায় ল্যান্ডফল করেছে ঘূর্ণিঝড়। দিঘার সমুদ্রে ৩০ ফুট উচ্চতায় ঢেউ উঠছে। ফুঁসছে সমুদ্র। উত্তাল সমুদ্রের অবস্থা। ইতিমধ্যেই গ্রামে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, ৫০ জন সেনাবাহিনীর একটি দল দিঘায় রয়েছে। সমুদ্র উপকূল এলাকার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা। কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে গ্রামগুলিতে। চাঁদিপুরেও হচ্ছে প্রবল জলোচ্ছ্বাস। এমনকি, গাড়িও ডুবে যাচ্ছে বলে খবর। দুর্যোগ মোকাবিলায় সমুদ্রবাঁধ পরিদর্শন করেছেন সেচ ও জলপথ দফতরের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, মৎস্যমন্ত্রী।
দিঘা এবং শঙ্করপুরে কোনও হোটেলে পর্যটক রাখা যাবে না, এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। প্রতিটি বিডিও অফিস এবং থানাতেও কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এদিন জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা সবংয়ের নানান এলাকা পরিদর্শনে যান। সবং বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য সবংয়ে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, ৮১টি শিবিরে প্রায় ১২হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে। তাঁদের শুকনো এবং রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। ডেবরার বিধায়ক তথা মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এদিন ওই বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় কাঁচাবাড়ি থেকে মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
কলকাতায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ইয়াস মোকাবিলা প্রস্তুত রয়েছে সেনা, বায়ু সেনা, নৌসেনা, উপকূলরক্ষী বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এদিন সকাল থেকেই কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামীকাল, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশার বালেশ্বর, কেন্দ্রাপড়া, ভদ্রক, জগৎসিংহপুরের মতো উপকূলীয় জেলাগুলিতে অতি ভারী এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, পশ্চিবঙ্গের দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতেও।






