আজকে সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা চলছে। এতদিন নুসরাত জাহান নিয়ে হাওয়া গরম হয়েছে তবে আজ সকাল থেকে সমস্ত ফুটেজ কেড়ে নিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়।
তৃণমূল ভবনে মমতার সঙ্গে বৈঠক করতে সপারিষদে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করেননি তবে তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে পাকা খবর যে চলতি সপ্তাহেই ঘর ওয়াপসি করে ফেলবেন সপুত্র মুকুল রায়।
আরও পড়ুন- ‘মস্তক মুণ্ডন করে পাপ খণ্ডাব’, মুকুল বিদায়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া সৌমিত্র খাঁর
আর মুকুল রায়ের সঙ্গে এবার সম্ভবত লাইন লাগিয়েছেন সব্যসাচী দত্ত এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে মুকুল রায় কে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন বিধান নগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে।সেই সময় জোর গুঞ্জন উঠেছিল তাহলে সব্যসাচী বোধহয় বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন মুকুলের হাত ধরে তবে লুচি আলুর দম তত্ত্ব দিয়ে প্রাথমিকভাবে সেই ঘটনাকে আড়াল করা হলেও পরবর্তীকালে সব্যসাচী দত্ত সুড়সুড় করে বিজেপিতে ঢুকে পড়েন।
এরপরে চলতি বছরের বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগে বেসুরো গান গেয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় যোগদান বিজেপিতে। অত্যন্ত শিক্ষিত এবং মার্জিত বলে পরিচিত রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোটের আগে মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন সেটাকে ভালোভাবে নেননি কেউই।
বিধানসভা ভোটের আগে অনেক হম্বিতম্বি করলেও রাজীব এবং সব্যসাচী দুজনেই ফিরে গিয়েছেন বিজেপির হয়ে লড়াই করে। আর কিছুদিন আগে থেকেই আবার তাদের শুরু হয়েছে মমতা বন্দনা।
সরাসরি কেউ কিছু বলছেন না যে তারা তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন তবে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে বিজেপিতে আর তাদের ভালো লাগছে না।
এই যেমন সব্যসাচী দত্ত কিছুদিন আগে মমতা সম্পর্কে বলেছিলেন, “উনি বয়সে বড়। ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। ওনার রাজনৈতিক ম্যাচিওরিটির সঙ্গে আমার কোনও তুলনা চলে না।”
আরও পড়ুন- তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ পদে বসতে চলেছেন মুকুল রায়
আবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির তুলোধোনা করে ফেসবুকে প্রকাশ্যে পোস্ট দিয়েছিলেন, “সমালোচনা তো অনেক হল… মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না।”
আশা করা যাচ্ছে যে, মুকুল রায় একবার তৃণমূলে ফেরত চলে এলেই তারপরেই সব্যসাচী এবং রাজীব ফের চলে আসবেন ঘাসফুলের ছত্রছায়ায় তবে এখন তৃণমূল তাদেরকে কতটা আপন করে নেয় সেটাই দেখার।





