‘বিজেপি থেকে বেরিয়ে ভালো লাগছে’, সপুত্র তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন মুকুলের, উত্তরীয় পরিয়ে ‘আপন’ করে নিলেন অভিষেক

২০১৭ সালে চলে গিয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর পর ফের ‘ঘর ওয়াপসি’ করলেন মুকুল রায়। নিজে একা নন, সঙ্গে ছিলেন পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও। পুরনো দলে, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে ফের রাজনৈতিক ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি। শুক্রবারই তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন মুকুল। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন পুরনো দলে ফিরে মুকুল বলেন, “বিজেপি থেকে বেরিয়ে খুব ভাল লাগছে। নতুন আঙিনায় এসেছি, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। আর এটা ভেবে ভাল লাগছে, বাংলা আবার তার নিজের জায়গায় ফিরবে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা”।

আরও পড়ুন- হেরেই গেরো! সব্যসাচী থেকে রাজীব, সকলেই ফিরতে চান ‘মমতা’ময়ীর আঁচল তলে!

সালটা ২০১৭। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান মুকুল রায়।  কিন্তু কেন? আসলে, ২০১৬-এর নারদকাণ্ডের স্টিং অপারেশনের ভিডিওতে তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে দেখা যায় মুকুল রায়কেও। কিন্তু সেই প্রভাব যদিও বিধানসভা নির্বাচনে পড়েনি। কিন্তু এরপর থেকেই মুকুল রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদের উপর চাপ বাড়ে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই চাপ এড়াতেই তড়িঘড়ি বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। তাঁকে অনুসরণ করেন অর্জুন সিং, শোভন চট্টোপাধ্যায়রাও।

এরপর ২০২০ সালে ভালো কাজের জন্য বিজেপির তরফে মুকুলকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদ দেওয়া হয়। এমনকি, একুশের নির্বাচনে  নিজের অনীহা সত্ত্বেও ভোটে দাঁড়িয়ে জিত ছিনিয়ে আনেন মুকুল। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন বিরোধী দলনেতার দৌড়ে তাঁকে পিছনে রেখে শুভেন্দু অধিকারীকে এগিয়ে আনা হল, তখনই চাপা ক্ষোভ কাজ করছিল মুকুলের মধ্যে।

আরও পড়ুন- তৃণমূলে ঘর ওয়াপসি চাণক্যের! মুকুলহীন পদ্মে এখন দীর্ঘশ্বাস, বিপর্যস্ত দিলীপ ঘোষ 

এরপর তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার সময় হাসাপাতালে গিয়ে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন থেকেই গুঞ্জন ওঠে মুকুলের দলবদলের। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্রে খবর, ২০২০ থেকেই মুকুল দলবদলের চিন্তা করছিলেন। এবার তৃণমূলে তাঁকে নতুন কোন পদ দেওয়া হয়, তিনি এখানে ফের তাঁর চাণক্যনীতি কতটা ফলাতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

আরও অন্যান্য খবর