জাল টিকাকরণ কাণ্ড নিয়ে এখন রীতিমত হৈচৈ চলছে কলকাতায়। যেভাবে দেবাঞ্জন দেব নামে ওই ব্যক্তি এতটা সাহসী হয়ে জাল করোনার ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষকে দিচ্ছিলেন দিনের পর দিন ধরে তা ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্তা থেকে সাধারণ মানুষ সকলে।
এই গোটা ঘটনা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এতটাই রেগে গিয়েছেন যে ঘনিষ্ঠমহলে বলেছেন, ওকে ধরে পাঁচ হাজার বার রাস্তার মাঝখানে কান ধরে ওঠবোস করানো উচিত।
তবে এত গেল কথার কথা, পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্রকে ফোন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন যে দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা যেন এখনই দায়ের করা হয়।
তিনি বারংবার পুলিশ কমিশনারকে বলেছেন যে এই ঘটনার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয় যাতে কোনো মানুষ এইরকম ঘৃণ্য কাজ করার আগে একশ বার ভাবে। কোনোভাবেই যেন পুলিশ এই ঘটনায় আপোস না করে, এই নির্দেশ তিনি বারংবার দিয়েছেন।
পুলিশ সন্দেহ করছে যে এর পিছনে কোন বড়োসড়ো চক্র লুকিয়ে আছে এবং পুরসভার নিচুতলার কিছু কর্মী সম্ভবত এর সঙ্গে যুক্ত। পুরসভার ব্যক্তির সাহায্য ছাড়া এত দক্ষভাবে দেবাঞ্জন এর পক্ষে গোটা বিষয়টি পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না বলে মত পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মুরলীধর শর্মা জানিয়েছেন যে, ডিসি ডিডি সৈকত মিত্রের অধীনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে গোটা ঘটনাটির তদন্ত করতে।
আজ সকাল বেলায় সাংসদ মিমি চক্রবর্তী প্রবল পেট ব্যথায় আক্রান্ত হন। তার শারীরিক অসুস্থতা জাল টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিনা তা দেখা হচ্ছে। যাদের শরীরে এই ভুয়ো টিকা প্রবেশ করেছে তাদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চার জন চিকিৎসক নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়াও দেবাঞ্জন দেবের দুই সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দাপ্রধান মুরলীধর শর্মা আগেই জানিয়েছিলেন শুধু কসবা নয় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন দেবাঞ্জন দেব। তাই সব দিকেই খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে আজ সকালে বাগরি মার্কেটে হানা দেয় কলকাতা পুলিশ। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে জানা গিয়েছে আসল বা নকল করোনা টিকাই বাগরি মার্কেট থেকে পাওয়া যায়নি। দেবাঞ্জন দেব যে জানিয়েছিল সে বাগরি মার্কেট থেকে এই ‘করোনা টিকা’ জোগাড় করেছিল সেই তথ্য সম্ভবত ভুয়ো।
কসবার যে দুই এলাকায় ওই ভুয়ো ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প চলছিল সেই দুই এলাকার মানুষের আজ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে।






