পাঁচ বছরে কর্মসংস্থান হবে দেড় কোটি, ডিসেম্বর পর্যন্ত রোড ট্যাক্স মকুব, প্রস্তাবিত রাজ্য বাজেটে থাকছে অনেক চমক

করোনা পরিস্থিতিতে রোড ট্যাক্স মকুব করার সময়সীমা আরও বাড়াল রাজ্য সরকার। এরই সঙ্গে এবারের বাজেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে জমি, বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ছাড় দেওয়া হবে। দলিল রেজিস্ট্রেশনের খরচও কমানো হল।

তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভায় পূর্ণ বাজেট পেশ করল তৃণমূল সরকার। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র অসুস্থ থাকায় বাজেট পেশ করলেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এ বছরের বাজেটে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা চলতি অর্থবর্ষের জন্য। রোড ট্যাক্সের ছাড়ের সময়সীমা ৩১শে জুন থেকে বাড়িয়ে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জমি, বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রেও স্ট্যাম্প ডিউটি কমানো হয়েছে ২ শতাংশ।

আরও পড়ুন- শান্তনু ঠাকুর থেকে নিশীথ প্রামাণিক, বাংলা থেকে মোদীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব পেলেন ৪, আর কে কে তালিকায়, দেখুন

এই প্রস্তাবিত বাজেটে চারটি নতুন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। আর কৃষক বন্ধু প্রকল্প ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের জন্যও ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। আগামী আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিত পর্যন্ত স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের ক্যাম্প করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি কর্মসংস্থান হবে, এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এবারের রাজ্য বাজেটে।

এই বাজেটে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে করোনা পরিস্থিতিতেও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য থেকে ৩.৭১ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে কেন্দ্র। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করা হয়েছে।

শুধু তাই-ই নয়, এবারের বাজেটে অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ ধার্য করা হয়েছে ২১৭১.৭৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে ৯,১২৫ কোটি টাকা। তাছাড়া, সুন্দরবন উন্নয়নে ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৭৩.৫৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন- ‘এবার বাবাকে বলো কর্মসূচী নিন’, শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য পার্থর, শাসক-বিরোধী তরজায় উত্তাল বিধানসভা

এছাড়াও, এবারের প্রস্তাবিত রাজ্য বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ওপর। এই শিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১,১৪,৪৭৭ কোটি। আবার, শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে ১,২৯,১৯১ কোটি টাকা।

আরও অন্যান্য খবর