বহুকালের প্রথা ভাঙা হয়েছে। বিধানসভায় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মুকুল রায়কে যিনি কি না কিছুদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এবার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
গত শুক্রবার মুকুল রায়কে পিএসির চেয়ারম্যান করার কথা ঘোষণা করার পরই বিধানসভা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন বিজেপির বিধায়করা। তাদের অভিযোগ, বিধানসভায় বিরোধীদের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। এই কারণে আগামী মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত নানান অভিযোগ নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হবে বিজেপি বিধায়করা। তারা ইস্তফাপত্র দিতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন- ‘মেসি তো তৃণমূলের জার্সি পরেই খেলতে নেমেছিলেন, জিত তো আসবেই’, আজব দাবী মদনের
বেশ কিছুদিন ধরেই বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি ও হাউস কমিটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই শাসক ও বিরোধীদলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। বিরোধীদের দাবী ছিল, ১৫টি কমিটির চেয়ারম্যান পদ রয়েছে। কিন্তু ১০টির বেশি পদ ছাড়তে রাজি হয়নি শাসক দল। এদিকে, নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল বিরোধীরা দলও।
এরই মধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে এই বিবাদ তুঙ্গে ওঠে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে। চেয়ারম্যান কে হবেন, এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যেই শুরু হয় চাপানউতোর। এই পদের জন্য ছ’জন বিধায়কের নাম মনোনীত করে পাঠায় বিজেপি। সেখানে কিন্তু মুকুল রায়ের নাম ছিল না। কিন্তু এরইমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুকুল রায় যেহেতু বিজেপিরই বিধায়ক, তাই তাঁকেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে। আর বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন তা কার্যকরও করা হয়েছে।
এরপরই প্রতিবাদ আর চরমে ওঠে। এই মুহূর্তে বিধানসভায় নানান কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মনোজ টিগগা, মিহির গোস্বামী, অশোক কীর্তনীয়া, নিখিলরঞ্জন দে-সহ আরও বেশ কয়েকজন। এঁরা সকলেই স্থির করেছেন যে নিজেদের বিধায়ক পর তারা ছেড়ে দেবেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার, বিধানসভায় যাবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর সঙ্গে বসেই পদত্যাগপত্র চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা নিয়ে যাওয়া হবে রাজভবনে রাজ্যপালের কাছে নালিশ জানাতে। এবার বিজেপি এই চালে শাসকদল মাত হয় কী না, এখন সেটাই দেখার।





