পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এর প্রথম দফা আজ সম্পন্ন হয়েছে, আর সেই ভোটপর্ব ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক অশান্তির খবর সামনে এসেছে। সকাল থেকেই একাধিক জায়গায় উত্তেজনা, বিক্ষোভ এবং অভিযোগের আবহ তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কোথাও কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বেশ কিছু ঘটনা। কুমারগঞ্জে রাজ্য পুলিশের সামনেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু সরকারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ভরতপুরে পোলিং এজেন্টকে ভয় দেখিয়ে বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে সরব হন বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষ। এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের একাধিক এলাকায় শাসক দলের দাপট স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খান। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, শালতোড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের একটি গাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক ইভিএম উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই গাড়িতে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি ইভিএম মেশিন ছিল এবং তৃণমূল কর্মীরা সেগুলি নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
সৌমিত্র খানের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি আরও গুরুতর কারণ ওই ইভিএমগুলি নাকি স্ট্রং রুমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অর্থাৎ যেখানে ভোটের পর মেশিনগুলি নিরাপত্তার মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়, সেই জায়গায় পৌঁছানোর আগেই এই মেশিনগুলির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে এবং তাঁর দলীয় কর্মীরা হাতেনাতে এই ঘটনা ধরে ফেলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর অভিযোগ আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে তিনি বলেন, বাঁকুড়া জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকেও নাকি কিছু ইভিএম উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘কমলা নিবাস’-এর হাত ধরে ফিরেছেন ছোটপর্দায়! ব্যস্ত শুটিংয়ের ফাঁকেই পাহাড়ে সপরিবারে ছুটি কাটাচ্ছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়! একরত্তি ছেলের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত যাপনের ছবি করলেন ভাগ! কথায় গিয়েছেন অভিনেতা?
এই বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের গাড়িতে এতগুলি ইভিএম এল? সেগুলি কি আদৌ বৈধভাবে পরিবহন করা হচ্ছিল, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও উদ্দেশ্য? স্ট্রং রুমে পৌঁছানোর আগেই এই ধরনের ঘটনা কি ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলছে না? যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি, তবুও বিরোধীদের দাবি, গোটা ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। এখন দেখার, এই বিতর্কের জেরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন করে কী প্রভাব পড়ে এবং শাসক দল এই অভিযোগের জবাব কীভাবে দেয়।





