‘রাজ্যের বন্যা ম্যান মেড, ডিভিসির জল ছাড়ার জন্য এমন হয়েছে’, মোদীকে কড়া ভাষায় চিঠি মমতার

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও নানান ড্যাম থেকে জল ছেড়ে দেওয়া র কারণে কার্যত বন্যার সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। আজ হাওড়ার আমতায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাওয়ার কথা ছিল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ও হুগলীর খানাকুলেও। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে যেতে পারেন নি। তবে বন্যা পরিস্থিতি দেখে প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করার পাশাপাশি কড়া ভাষায় চিঠিও লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ডিভিসির জল ছাড়া বন্ধ করতে বলা হয় রাজ্যের সেচ দফতরের তরফে। ফোন করার পাশাপাশি মোদীকে চিঠি লিখে মমতা জানান, পাঞ্চেত, মাইথন ও তেনুঘাট ব্যারেজ থেকে বিপুল পরিমান জল ছাড়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২ লাখ কিউসেক জল ছেড়েছে ওই তিন ব্যারেজ। ফলে রাজ্যে যে বন্যা হয়েছে তা এক কথায় ম্য়ান মেড। হাওড়া, হুগলি, পূর্ববর্ধমান, বীরভূমের একটি বড় অংশ ওই জলেই ডুবেছে।

আরও পড়ুন- ‘৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন, সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না’, মোদীকে পরোক্ষভাবে তোপ অভিষেকের

মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে এও লেখেন যে ইতিমধ্যেই এই বন্যায় বেশ কিছুজমের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি এখন জলের তলায়। অনেক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট জলে ডুবে রয়েছে। বছরের পর বছর ডিভিসি জল ছেড়ে এই বন্যার সৃষ্টি করছে।

তিনি এও লেখেন, ২০১৭, ২০১৯, ২০২১ সালে ডিভিসি জল ছাড়ার কারণে রাজ্যে এই বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিভিসির সংস্কার হয় না বহুদিন। এই কারণে একটু জল হলেই জল ছেড়ে দেয় ডিভিসি। এমন পরিস্থিতিতে ডিভিসির সংস্কার না হলে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় নেই।

এদিন সড়ক পথেই আমতা পৌঁছন মমতা। কথা বলেন বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে। তাদের তিনি আশ্বাস দেন যে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। গোটা এলাকা জলমগ্ন থাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়েই প্রশাসন কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আধিকারিকরা কীভাবে উদ্ধার কার্য চালাচ্ছেন, কতজনকে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছে, সমস্ত তথ্য জেনে নেন তিনি।

আরও পড়ুন- বাংলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন মোদীর, রাজ্যকে সবরকম সাহায্য করা হবে, আশ্বাস কেন্দ্রের

বন্যা বিধ্বস্ত আমতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা বৃষ্টির বন্যা নয়। এটা জল ছাড়ার বন্যা। ম্যান মেড ফ্লাড। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। ডিভিসি ইচ্ছেমতো জল ছাড়ছে। এটা কেন্দ্রের ডিভিসি-র খাল সংস্কার না করার ফল। এখনও দেখছেন বাজ পড়ছে। আপনারা সাবধানে থাকুন।’ প্রশাসনের আধিকারীকদের মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন, ‘সাধারণ মানুষের পাশে থাকুন”।

RELATED Articles