ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সামনে আসছে উদ্বেগজনক সামাজিক ঘটনাও। সাধারণ মানুষের মনে যখন নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতার বুকে ঘটে গেল আরেকটি লজ্জাজনক ঘটনা। একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে মহিলাদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এই রাজ্যে মহিলারা কতটা নিরাপদ?
ঘটনাটি ঘটেছে রুবি জেনারেল হাসপাতালে (Ruby General Hospital) ,১৬ এপ্রিলে। অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য আসা এক তরুণী ও তাঁর মা হাসপাতালের মহিলা শৌচাগার ব্যবহার করতে গেলে সেখানে গোপনে একটি মোবাইল ফোন রাখা ছিল, যা দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছিল। টয়লেট থেকে বেরোনোর সময় বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে এবং তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ওঠেন। পরিবারের দাবি, সেই মুহূর্তেই সন্দেহভাজন এক কর্মীকে হাতে-নাতে ধরে ফেলা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি জানানো হলেও প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ভুক্তভোগীরা তাতে রাজি হননি এবং সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপর কলকাতা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তেমন কড়া পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে মানুষ চিকিৎসার জন্য যায়, সেই জায়গাতেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? বিশেষ করে মহিলাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বড় সমস্যার ইঙ্গিত।
এখন নজর প্রশাসনের দিকে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে এই ঘটনার পর একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, যেখানে মানুষ নিরাপত্তা খুঁজতে যায়, সেই হাসপাতালেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে মহিলাদের জন্য সত্যিই কতটা সুরক্ষিত আমাদের সমাজ?





