সাম্প্রতিককালে পর্ণ-কাণ্ড নিয়ে গোটা বিনোদন দুনিয়া উত্তাল। সংবাদমাধ্যমে নানান সময় নানান খবর উঠে আসছে। জানা যাচ্ছে, নানান অপরাধের সঙ্গে যুক্ত মহিলারা অভিনয় না মডেলিং দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এই কারণেই তাদের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে অভিনেত্রী বা মডেল তকমা।
এখানেই আপত্তি ভারত-বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসানের। অভিনেত্রীর কথায়, “যাকে খুশি মডেল বা অভিনেত্রী বলবেন না। এতে প্রকৃত শিল্পী অসম্মানিত হচ্ছেন”। বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে একটি পোস্টও করেছেন তিনি। সেখানে বিস্তারিত ভাবে লিখেছেন তাঁর বক্তব্য।
জয়ার মতে, ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রভাব, বাহ্যিক সৌন্দর্য বা কপালজোরে দু’একটি বিজ্ঞাপন বা নাটকে কাজ করলেই তাঁকে মডেল বা অভিনেত্রী বলা যায় কি না, সেই ভাবনাটা এ বার জরুরি হয়ে উঠছে।
অভিনেত্রীর আরও দাবী, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কেউ নিছক সময় কাটাতে সামাজিক মাধ্যমে, বন্ধুদের তৈরি ভিডিওতে অভিনয় করেছেন। মডেল হিসেবে হয়তো ছবি আছে বাড়ির পাশের কোনও দর্জির দোকানে বা একটা, দুটো বিলবোর্ডে। এমন মানুষ নিজেকে অভিনেত্রী বা মডেল বলে দাবী করছেন। অথচ মডেল বা অভিনেতা-অভিনেত্রী হয়ে ওঠার জন্য যে নিষ্ঠা, একাগ্রতা, জ্ঞান, দর্শন, প্রস্তুতি, সামাজিক ও পেশাদার দায়বদ্ধতা প্রয়োজন সে সব কিছুই তাঁর নেই”।
কিন্তু হঠাৎ এমন প্রতিক্রিয়া কেন জয়ার? সেকথাও জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, “কোথাও যে কোনও পুলিশি অভিযানে ধর-পাকড় হলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিরোনাম হয় অমুক মডেল বা অভিনেতা-অভিনেত্রী গ্রেফতার”।
জয়ার মতে, এই ধরনের খবর সাধারণ পাঠকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এর পাশাপাশি অভিনেত্রীর অভিযোগ, এই ধরনের শিরোনামে নামী অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেল সহ বিনোদন দুনিয়ার বাকি মানুষেরা অসম্মানিত হচ্ছেন। যাঁরা শিল্পের উন্নতির জন্য দিনরাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন, তাদের প্রায়ই আত্মীয়, বন্ধু, পড়শিদের থেকে তাঁদের শুনতে হচ্ছে, “দেখলাম তোমাদের এক মডেল বা অভিনেতা এই কু কর্ম করেছেন”, এই ধরণের নানান কটাক্ষ।
এই কারণেই জয়ার অনুরোধ, কোনও ব্যক্তিকে যখন কোনও তকমা দেওয়া হবে, তার আগে যেন সংশ্লিষ্ট সংগঠন এই বিষয়টি যাচাই করে নেয়। সেই ব্যক্তির নিষ্ঠা, অবদান বিবেচনা করে। এরপর নির্দিষ্ট তকমা দেওয়া হয় যেন তাঁকে। এমনটা করলে তবেই অভিনয়, মডেলিং পেশা সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের মনে যে বিভ্রান্তি জমে রয়েছে, তা বিভ্রান্তি দূর হওয়া সম্ভব।





