রাজ্যে চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে দলের নেতাদের কাটমানি রুখতে আগেই তৎপরতা দেখিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তবুও নানান জায়গা থেকে টাকার বিনিময়ে ফর্ম বিক্রির অভিযোগ এসেছে নবান্নে।
এই কারণে এই কাটমানি কঠিন হাতে দমন করতে এবার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হল রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর তরফে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সঙ্গে কোনও পঞ্চায়েত সদস্য বা কোনও স্থানীয় ক্লাবের সদস্য যুক্ত থাকতে পারবে না।
আরও পড়ুন- আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট সিপিএমের দ্বিতীয় ঐতিহাসিক ভুল! জোট ভাঙার ঘোষণা বামেদের
গত ১৬ই আগস্ট থেকে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে। ফর্মে যাতে কোনও জালিয়াতি না হয়, সেই কারণে ইউনিক নম্বর বসানোর ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এরপরও নানান জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে যে তৃণমূলের লোকই টাকার বিনিময়ে ফর্ম বিক্রি করছে। এই অভিযোগ নবান্নে পৌঁছতেই কড়া নির্দেশিকা জারি করা হল রাজ্য সরকারের তরফে।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও পঞ্চায়েত সদস্য বা স্থানীয় কোনও ক্লাবের সদস্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম তোলা বা ফর্ম ফিলআপ করার ক্ষেত্রে কাউকে সাহায্য করতে পারবে না। বরং, প্রয়োজন হল এক্ষেত্রে আশা কর্মী, কন্যাশ্রী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা কর্মীরা সাহায্য করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের এমন নির্দেশে প্রশ্ন উঠেছে যে তাহলে কী নিজের দলের জনপ্রতিনিধিদের উপরেই আস্থা নেই মুখ্যমন্ত্রীর? এই নির্দেশের জেরে নিচু তলায় উচ্চতর নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণহীনতাই সামনে চলে এল বলে মনে করা হচ্ছে। এবার প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে এই দুর্নীতি কেন রুখতে পারছেন না মমতা?
আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সিবিআই তদন্ত, আক্রান্ত কর্মীদের সুবিচার পাইয়ে দিতে তৎপর বিজেপি
বিজেপির কটাক্ষ ও টাকা কামানো ছাড়া কারও কাছে তৃণমূলে থাকার অন্য কোনও কারণ নেই। যে দলে কোনও নীতি, আদর্শ নেই, সেই দলে যে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণও থাকবে না, সেটাই কী স্বাভাবিক নয়? এই কারণেই পঞ্চায়েত বা ক্লাবের লোকজনকে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে দূরেই রাখতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।





