আইকোর কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তলব করে সিবিআই। আজ তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা দিতে রাজী হন নি। তিনি সিবিআইয়ের মুখোমুখি হবেন না, একথা চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের জানিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
তিনি চিঠিতে এও জানান যে সিবিআই চাইলে তাঁকে তাঁর বাড়ি বা অফিসে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সেই পথেই হাঁটল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আজ বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শিল্প সদনে পৌঁছে যায় সিবিআইয়ের দল। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছন পার্থবাবু। বেলা ১২টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। দুপুর সওয়া ১টা পর্যন্ত সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
বলে রাখি, এর রোজভ্যালি কাণ্ডের সময়ও এমনটাই হয়েছিল। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও সিবিআইয়ের মুখোমুখি হতে চান নি তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান যে তাঁর দলনেত্রী নাকি তাঁকে হাজিরা দিতে বারণ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত হাজিরা দিতে হয় তাঁকে। এরপরই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। ভুবনেশ্বর জেলে তিনমাস কাটিয়েছিলেন তিনি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও এর আগে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠায় সিবিআই। কিন্তু সেই সময় রাজ্যে বিধানসভা ভোটের কারণ দেখিয়ে সেই হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। এরপর ভোট মিটতেই তাঁকে ফের নোটিশ দেওয়া হয়। আইকোর চিটফান্ডের মতো এক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে পার্থবাবুর কী এমন ঘনিষ্ঠতা, তাঁর সঙ্গে সেই সংস্থার আর্থিক কোনও লেনদেন ছিল কী না, তা জানতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কিন্তু অন্যবারের মতো এবারও উপনির্বাচনের কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই কারণে এই বিষয়টি হয়ে ওঠে বেশ নাটকীয়। এরপর সিবিআইয়ের শিল্পভবনে উপস্থিতি নিয়ে জল কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখার।
এদিকে এই বিষয়ে আজ, সোমবার সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “এই নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। উনি একবার গিয়ে দেখে আসুন, সিবিআইয়ের চা কেমন গরম”।






