লক্ষ্মীবারেই তৃণমূল যাত্রা, ঘর ওয়াপসি করছেন সব্যসাচী দত্ত, এখনও হত্যে দিয়ে পড়ে রাজীব

একুশের বিধানসভায় হারের পর সব্যসাচী দত্ত যে ফের তৃণমূলে ফিরতে পারেন, এ নিয়ে আগেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এমনও জানা গিয়েছিল যে সব্যসাচীকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তাপস চট্টোপাধ্যায় ও সুজিত বসুকে। এ নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে আলোচনাও কম হয়নি।

তবে এবার সব খোলাখুলি ঘোষণার পালা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে যদি সিদ্ধান্তের কোনও বদল না ঘটে, তাহলে আজ, বৃহস্পতিবারই ঘর ওয়াপসি করতে পারেন সব্যসাচী দত্ত। ফিরছেন তৃণমূলে।

একুশের বিধানসভা ভোটের আগে তিনজন বেশ প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বিজেপিতে গিয়ে ভিড়েছিলেন। এরা হলেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সব্যসাচী দত্ত। অনেকেরই মতে, এদের মধ্যে সবথেকে সাহসী ছিলেন সব্যসাচী। তাঁর আক্রমণাত্মক ভঙ্গিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

একদিকে রাজীব ও শুভেন্দু যখন নিজেদের মন্ত্রিত্বের মেয়াদ কাটিয়ে তারপর বিজেপিতে যোগ, অন্যদিকে সব্যসাচী কিন্তু ২০১৯ সালেই তৃণমূল ও বিধাননগরের মেয়রের পদ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অমিত শাহ্‌’র হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নেন তিনি।

ভোটের আগে বেশ লম্বা-চওড়া ভাষণ দেওয়ার পরও ভোটে গো-হারান হারেন রাজীব ও সব্যসাচী। এরপর রাজীব বেশ স্পষ্টভাবেই তৃণমূলে ফেরার কথা জানান। অন্যদিকে, সব্যসাচীর আচরণও যে সন্দেহজনক ছিল না, তেমনটা নয়। বিশেষ করে মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরার পর সব্যসাচী কবে তৃণমূলে ফিরবেন, তার অপেক্ষাতেই ছিল অনেকেই। এবার তা হচ্ছে। কিন্তু এতদিন ধরে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেও শিকে ছিঁড়ল না রাজীবের।

তবে সব্যসাচী এবার দলে ফিরলে তাঁকে কী পদ দেওয়া হবে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তৃণমূল সূত্রে খবর, এখনও দলের তরফে তেমন কোনও আশ্বাস তাঁকে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিধাননগরের মেয়র পদে রয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তাই সেই পদ সব্যসাচী পাবেন না। আর আপাতত তৃণমূলে সেরকম কোনও পদ খালিও নেই। তবে তাঁকে ত্রিপুরা বা অসমে সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

RELATED Articles