রাজ্য কেন পেট্রোল-ডিজেলের ভ্যাট কমাচ্ছে না? জ্বালানির দাম কমানোর দাবী নিয়ে শহরজুড়ে বিক্ষোভ দেখাবে বিজেপি

কেন্দ্র পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে ভ্যাট কমালেও রাজ্য এখনও সে পথে হাঁটে নি। এই কারণে জ্বালানির দাম কমানোর দাবী  জানিয়ে পথে নামছে বিজেপি। আগামীকাল, সোমবার শহরে বিক্ষোভ দেখাবে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির অফিস থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। ৯-১২ই নভেম্বর জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে বিজেপির।

জ্বালানির দামের চোটে নাজেহাল অবস্থা দেশবাসীর। এর মধ্যে দীপাবলির আগেই পেট্রোল ও ডিজেলের উপর থেকে আবগারি শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। আর এর জেরেই চাপ বেড়েছে বিজেপিবিরোধী রাজ্যগুলির উপর।

কেন্দ্রের তরফে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্র দাম কমানোর পর দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে ভ্যাট কমিয়েছে। কিন্তু ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। এরে মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, পঞ্জাব-সহ ১৪টি রাজ্য।

আর কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। তবে এর পাল্টা কটাক্ষও করেছে বিরোধীরা। কংগ্রেস, শিবসেনার তরফে অভিযোগ আনা হয়েছে উপনির্বাচনে হারের পর ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে আবগারি শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই রিপোর্ট প্রকাশ আসলেই বিরোধী রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল। এদিকে, এই নিয়ে সোমবারই পোস্টার-প্ল্যাকার্ড হাতে বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি পরিষদীয় দল।

পেট্রোল, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিধানসভা অন্দরে এই প্রথম বিক্ষপভ দেখাতে চলেছে বিজেপি। এই প্রতিবাদে উপস্থিত থাকার কথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। আগামী সোমবার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বিধানসভায় শোক প্রস্তাব আসার কথা। ফলে তারপরে অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, শোকপ্রস্তাবে কলকাতা ও লাগোয়া জেলার বিধায়করা, উপস্থিত থাকবেন।

অন্যদিকে, বিজেপিরসর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ ফেসবুকে একটি পোস্ট করে লেখেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল, ডিজেলের এক্সাইজ় ডিউটি কমানোর ফলে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম কমল ৫ টাকা এবং লিটার প্রতি ডিজেলের দাম কমল ১০ টাকা। এবার নিজেদের জনদরদী বলে দাবি করা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের স্বার্থে ভ্যাট কম করা”।

বিজেপি পরিষদীয় দল সূত্রে খবর অনুযায়ী, বিধানসভা মুলতুবি হওয়ার পরে দলীয় বিধায়কদের প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে অংশগগ্ৰহণ করার কথা রয়েছে। আর বিধানসভা যদি মুলতুবি না হয়, তবে অধিবেশন কক্ষেই পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য সরকারের উদাসীনতা নিয়ে সর্ব হবেন পদ্ম শিবিরের বিধায়করা।

উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ শানাচ্ছিল রাজ্য। কিন্তু এখন চিত্রটা সম্পূর্ণ উলটো। কেন্দ্র দাম কমানোর পর শাসকদলের গলায় অন্য সুর। শাসকদলের নেতৃত্বের পাল্টা যুক্তি, উপনির্বাচনে হারের পর ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।

RELATED Articles