ফের গোষ্ঠীকোন্দল তৃণমূলে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সভামঞ্চ, দলীয় বিধায়কের সভায় উদয়ন গুহর অনুগামীদের বোমাবাজি

ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিতাই। বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার সভায় বোমাবাজির অভিযোগ উঠল উদয়ন গুহর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

জানা গিয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার সিতাইয়ের এই সভায় জগদীশ বসুনিয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব। আচমকাই দু’জন দুষ্কৃতী আসে বাইকে করে। বোমাবাজি করে সেখান থেকে পালায় তারা। তাদের ধরা যায়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফের সভা শুরু হয়।

এই ঘটনায় খোদ বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া বলেন, “কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসে একনায়কতন্ত্র চলছে। এখানে দল চালাচ্ছে উদয়ন গুহ ও গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ। তৃণমূলের জেলা কমিটির কোনও বৈঠক হয় না। তাঁরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দল চালাচ্ছেন। গিরিনবাবু মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রে কত  ভোট পেয়েছেন আর আমি সিতাই-তে কত ভোট পেয়েছি তা দেখা হোক। তাহলেই সব ষ্পষ্ট হবে। এভাবে আমার সভায় বোমাবাজি করে আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষ তা দেখছেন। সব কিছুরই বিচার হবে”।

তবে এই ঘটনায় উদয়ন গুহ বা তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সমস্যার সূত্রপাত আজ, বৃহস্পতিবার সকালে। উদয়ন গুহর অনুগামীদের বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনের সভামঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এদিন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ডাকে সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বড় আটিয়াবাড়ি গ্রামে সভা হওয়ার কথা ছিল। সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা নূর আলম হোসেনের এই সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

এর আগে কোচবিহারে তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বারবার সতর্ক করেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এই কোন্দল আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে রয়েছেন সিতাই কেন্দ্রের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া ও অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ ও দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ।

কিছুদিন আগেই গীতালদহ এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থার পর বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া ঘনিষ্ঠ অঞ্চল সভাপতি মফুজার রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয় দল থেকে। এর আগে বিধায়ক জগদীশ বাবুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জেলা পরিষদ সদস্য নুর আলম হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি বীরেন্দ্র নাথ বর্মণ ও উদয়ন গুহ। বিরোধের সূত্রপাত সেখান থেকেই।

উপনির্বাচনের সময় দলের প্রচারে উদয়ন গুহর অনুগামীরা হুমকি দিয়েই বলেন যে কোচবিহারে উদয়ন গুহ ছাড়া আর কাউকে নেতা বলে মানা হবে না। কোচবিহারে বিশেষ করে দিনহাটায় রাজনীতি করতে গেলে উদয়ন গুহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে হুঁশিয়ারি শানানো হয়।

RELATED Articles