দিন দুয়েক আগেই খবর মেলে শহরের বুকে এক ধ’র্ষ’ণের ঘটনার কথা। গত ২৫শে জানুয়ারি এক মূক ও বধির তরুণীকে অ্যাপ ক্যাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভর সন্ধ্যায় অ্যাপ ক্যাবে তরুণীকে ধ’র্ষ’ণ করে রাস্তায় ফেলে পালায় ক্যাব চালক। কলকাতার প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই তরুণী।
অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার চালককে আদালতে পেশ করা হয়। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, ওই দিন তিনি বাড়ি ফেরার জন্য বাস ধরবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন। বাসে পার্ক সার্কাস স্টেশনে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
পার্ক সার্কাস স্টেশন থেকে মগরাহাট ফেরার কথা ছিল তাঁর। সেই সময় একটি অ্যাপ ক্যাব দেখতে পান তিনি। চালক তাঁকে দেখে গাড়ি থামালে উঠে পড়েন ওই তরুণী। এরপর গন্তব্যের দিকে না গিয়ে তাঁকে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে চলে যায় গাড়িটি। চালক ছাড়া আর কোনও যাত্রী ছিলেন না গাড়িতে। একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে গাড়ির মধ্যে তরুণীকে ধ’র্ষ’ণ করে, গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় চালক।
এই ঘটনায় কামরে আলম ওরফে রাজা নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতার আনন্দপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ওই যুবকই ওই অ্যাপ ক্যাবের চালক ছিল বলে জানা যায়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অ্যাপ ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে উঠল শ্লী’ল’তা’হা’নির অভিযোগ। জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা বছর ৩০-এর এক মহিলা তাঁর বোনকে নিয়ে সেক্টর ফাইভ থেকে একটি অ্যাপ ক্যাবে ওঠেন। অভিযোগ, এরপরই ক্যাবের চালক ওই দুই বোনকে নানান কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে। শুধু তাই-ই নয়, গাড়ির দরজা লক করে মহিলার শ্লী’ল’তা’হা’নি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এরপর ওই মহিলা চিৎকার করতে শুরু করলে, তাদের দুজনকে নামিয়ে গাড়ি নিয়ে পালায় ওই চালক।
এই ঘটনায় হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। অভিযোগ দায়ের করার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই চারু মার্কেট থানা এলাকা থেকে ওই গাড়ি ও গাড়ির চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই চালকের নাম মনোজ কুমার। তার পরিবারের দাবী, মনোজকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
শহরে একের পর এক ধ’র্ষ’ণ ও শ্লী’ল’তা’হা’নির ঘটনায় শহরে মহিলার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতায় রাতের অন্ধকারে মহিলারা কী আদৌ সুরক্ষিত? তাছাড়া বর্তমানে পথচলতি অনেক মহিলারাই অ্যাপ ক্যাবের উপর নির্ভরশীল। কাজের কারণে অনেক মহিলাকেই অনেক রাতে বাড়ি ফিরতে হয়। সেই সময় ভরসা অ্যাপ ক্যাব। কিন্তু সেই অ্যাপ ক্যাবেই যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেয়েদের জন্য রাতের শহরে চলাফেরা করা কতটা নিরাপদ।, তা বেশ ভাবাচ্ছে শহরবাসীকে।






