পুরসভা নির্বাচনে জেলাভিত্তিক নজরদারি কমিটির মাথায় নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার জল্পনা, এসবের মধ্যে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে শাসকদলকে। এসবের মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতা।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “আইপ্যাকের সঙ্গে কী চুক্তি ছিল, সে আমি জানি না। সেই চুক্তি ভেঙে গেছে। ক্ষতি না হলেও অসুবিধা তো হবেই। পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃণমূলের জয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান আইপ্যাকের”।
উল্লেখ্য, রাজ্যের ১০৭টি পুরসভার প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে যে বিক্ষোভের সৃষ্টি হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না দেখিয়েই দলের অফিশিয়াল পেজে যেভাবে একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হল ও পরবর্তীতে দলের তরফে সেই তালিকাকে আসল নয় বলে ঘোষণা করতে হল, তাতেন আইপ্যাককেই দায়ী করেছে তৃণমূল। এমনকি, তৃণমূল সুপ্রিমোরও তেমনটাই মত বলে জানা গিয়েছে। তবে আইপ্যাকের তরফে এই দায় ঝেড়ে ফেলে বলা হয় যে পুরভোটের প্রার্থী তালিকার সঙ্গে তাদের কোনও যোগসূত্র নেই।
এই বিবাদ এতটাই গড়িয়েছে যে জানা গিয়েছে প্রশান্ত কিশোর মমতাকে মেসেজ পাঠিয়ে জানান যে তৃণমূলের সঙ্গে বাংলা, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় আর কাজ করতে চান না তিনি। এই বার্তাকে কার্যত হুঁশিয়ারি বলেই মনে করেন মমতা। তৎক্ষণাৎ তিনি জবাব দিয়ে দেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’।
এরই মধ্যে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার বেশ প্রশংসা করেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন। “আইপ্যাকের কাজ দেখেছি। অসাধারণ। আমি ভারতের রাজনীতি ৬০ বছর ধরে লক্ষ্য করছি, এত অর্গানাইজড সেট আপ আগে দেখিনি। যারা আইপ্যাকের হয়ে কাজ করে, সবাই উচ্চযোগ্যতা সম্পন্ন। আইআইটি, আইআইএম, ন্যাশনাল ল স্কুলের গ্র্যাজুয়েট, দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিকসের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এরা সব এসেছে রাজনীতিতে। পয়সা কামানোর জন্য নয়, এরা এমনিই ৫ লক্ষ টাকা মাইনে পাবে। পাবলিক স্পেসে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে এসেছে। এরা খুব ভাল কাজ করেছে। এদের সার্ভে সিস্টেম, বিধানসভার প্রার্থীদের ব্যাপারে যা রিপোর্ট দিয়েছিল, সেই সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে ভাল ক্যান্ডিডেট হয়েছে। বিধানসভায় লিস্ট নিয়ে তো কোনও প্রবলেম হয়নি”।
সৌগত রায়ের সংযোজন, “আমি আই প্যাককে লিস্ট পাঠিয়েছিলাম। পরে জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিককে পাঠিয়েছিলাম। আমি এই নিয়ে একবারই পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীর সঙ্গে কথা বলি। ওরা বলে, লিস্ট ফাইনাল হয়ে গেছে। আমি বললাম, তাহলে আমার সাজেশনের আর দরকার নেই। পরে বিভিন্ন বিধায়কের অনুরোধে আমি দু-চারটে এসএমএস করেছি প্রার্থী বদলের ব্যাপারে। এছাড়া তালিকা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমার নাকি উত্তর ২৪ পরগনার দায়িত্ব ছিল। আগেও ছিল না, এখনও নেই”।
এরই মধ্যে কামারহাটির প্রার্থী বিক্ষোভের জন্য সরাসরি সৌগত রায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সেখানকার তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর কথায়, “পিকে-কে সরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় সৌগত রায়কে দেখতে দিল। উনি কোনটা দেখবেন? কোথাও যাবার নেই, অর্জুনের মাছের চোখের মতো টার্গেট কামারহাটি। কেন কামারহাটি? কারণ, কামারহাটি হচ্ছে মাখন। দইয়ের ওপরে মাখনের মতো। ওটাকে নষ্ট করতে হবে”।






