আনিসের মৃত্যুর প্রতিবাদে মিছিল ছাত্রছাত্রীদের, মিছিলে বাধা, পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি, চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হল বিক্ষোভকারীদের

চারিদিকে পড়ে প্রতিবাদের পোস্টার। ছেঁড়া পোস্টার রাস্তায় লুটোচ্ছে, প্রতিবাদের ভাষাকে যেন রুদ্ধ করা হয়েছে। কাউকে চ্যাংদোলা করে তো আবার কাউকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছে। একাধিক ছাত্রছাত্রীকে আটক করছে পুলিশ। টানা তিন ঘণ্টা ধরে প্রতিবাদ চালানোর পর যে দমিয়ে দেওয়া হল বিক্ষোভকারীদের। বিক্ষোভ শেষে এই চিত্রই ভেসে উঠল রাজপথে।

সময় যত এগোচ্ছে, আনিস হত্যাকাণ্ডে বিক্ষোভ ততই বাড়তে থাকছে। আজ সর কলকাতার জায়গায় জায়গায় ছাত্রনেতা আনিস খানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল বের করে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। দু’দলে ভাগ হয়ে যায় মিছিল। একদল যায় পার্কস্ট্রীট দিয়ে মৌলালির দিকে, অন্য মিছিল যায় এস এন ব্যানার্জী রোড ধরে। এর আগে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে দেখানো হয় বিক্ষোভ।

সেই সময় থেকেই পুলিশ বাধা দেওয়ায় রুট পরিবর্তন হয় মিছিলের। মৌলালি দিয়ে শিয়ালদহ ঢোকার চেষ্টা করে মিছিল। তবে মৌলালিতে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। ব্যারিকেড দেওয়া হলে তা ভেঙেই এগোতে থাকে মিছিল। এরপর পুলিশ মিছিলকে ধাওয়া করতে মিছিল ঢুকে পরে কলেজ স্ট্রীটে।

আর এরপরই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। গার্ডরেল দিয়ে আটকানো হয় মিছিল। কারণ সেদিক থেকে আর অন্য কোনওদিকে যাওয়ার পথ ছিল না। কলেজ স্ট্রীটে চারিদিক থেকে মিছিলকে ঘিরে ফেলা হয়। এরপরও ক্রমেই বাড়তে থাকে ছাত্রদের স্লোগান। দমানো যায় না তাদের।

ফলত, আরও কঠিন হয় পুলিশ। একের পর এক ছাত্রকে আটক করা হয়। কাউকে চ্যাংদোলা করে বা কাউকে আবার টেনে হিঁচড়ে তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে। ছাত্রীদের টেনে টেনে ভ্যানে তোলে মহিলা পুলিশ। এভাবেই কার্যত মুখ বন্ধ করানোর চেষ্টা করা হয় ছাত্রছাত্রীদের।

বলে রাখিম আনিস হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তিনজন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে সিট। তবে আজ, মঙ্গলবার আনিসের বাড়িতে সিটের আধিকারিকরা গেলে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। আনিসের পরিবারের দাবী শুধু সাসপেন্ড নয়, কড়া শাস্তি চাই। এই তিন পুলিশকর্মীই ঘটনার দিন রাতে আনিসের বাড়িতে গিয়েছিল কী না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

RELATED Articles