রাজ্যের হবু চিকিৎসকরা আদপে রোগীর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কতটা উপযুক্ত, সে নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এসএসকেএমে এমবিবিএস পরীক্ষার ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় ধরা পড়ল টুকলির ছবি। গতকাল, মঙ্গলবার এসএসকেএমের পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরের এক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
এখন চলছে এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা। এরই মধ্যে এসএসকেএমের হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক ভবনের শৌচাগারে মিলল অসংখ্য টুকলি। হবু চিকিৎসকদের হাতে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্র আদৌ কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক ভবনের শৌচাগারের যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে শৌচাগারের মেঝের চারিদিকে ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে ছোটো ছোটো কাগজের টুকরো। আস্ত বই থেকে পাতা ছিঁড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে পড়ার প্রমাণ ছড়িয়ে রয়েছে।
শৌচাগারের অবস্থা দেখে চিকিৎসকদেরই একাংশ আঁতকে উঠছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এমনভাবে পাশ করেই কি আগামীদিনে হবু চিকিৎসকরা রোগী দেখবেন? তবে শৌচাগারের ভিতরে কীভাবে এত টুকলি এল, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ।
রাজ্যের চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে এমনিতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর প্রমাণ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপে যেভাবে তাদের লোকেশন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের ঘটনা চিকিৎসক মহলের জন্য বেশ অপমানজনক।
আবার চিকিৎসকদের একাংশের মত, করোনা পরিস্থিতির সময় চিকিৎসকদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনার জন্য কড়া হওয়ার দরকার ছিল। রাজ্যে চিকিৎসকদের ফাঁকিবাজি নিয়ে একদিকে যখন এমন বিতর্ক চলছে, সেই সময়ই আবার রাজ্যের হবু চিকিৎসকদের এমবিবিএস পরীক্ষার ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় এমন টুকলি ধরা পড়ায় প্রশ্নের মুখে চিকিৎসক মহল।
এই ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মানুষ নিজের জীবন বাঁচাতে কাদের কাছে যাবেন? কাদের উপর নিজেদের জীবনের ভার নিশ্চিন্তে তুলে দেবেন মানুষ? এমন নানান প্রশ্ন ভিড় করে আসছে নানান মহলে। এই বিষয় নিয়ে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।





