ইচ্ছেমত খয়রাতি করা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থায় পড়তে হবে এ দেশের বেশ কিছু রাজ্যকে। এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ। ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন কেন্দ্রের কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেশ কয়েকজন সচিব বৈঠক করেন। চার ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে ওই কেন্দ্রীয় সচিবরা জানান যে বেশ কিছু রাজ্যে যেভাবে খয়রাতি চলছে, ভোটের আগে এমন কিছু প্রকল্পের ঘোষণা করা হচ্ছে, যাতে রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা কোমায় যেতে পারে।
কিছু রাজ্যে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে আর পরবর্তীতে চালু করা হচ্ছে, তা অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারেই কার্যকরী নয়। এর জেরে রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ পড়ছে, ঋণ বাড়ছে রাজ্যের। এই সমস্যার সমাধান দ্রুতই খুঁজতে হবে বলে জানান ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
উক্ত ওই প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পঞ্জাবের মতো রাজ্যে এমন কিছু প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে যা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিপজ্জনক। কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, খয়রাতিত প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে আর এই কারণে অন্যান্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ কমে যাচ্ছে। তাদের মতে, এই রাজ্যগুলি যদি ভারতের অন্তর্ভুক্ত না হত, তাহলে তাদের অবস্থা আরও বেশি ভয়ংকর হত।
এমনিতে ভোটের আগে নানান রাজনৈতিক দলই খয়রাতির প্রকল্প ঘোষণা করে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ইস্তাহারে সেরকমই বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। নানান রাজ্যে বিনামূল্য বিদ্যুতের মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধারবও ঘোষণা করা হয়ও।
তবে এতে বিজেপিও অবশ্য পিছিয়ে নেই। চলতি বছর উত্তরপ্রদেশ এবং গোয়ার ভোটের আগে খয়রাতি প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। যদিও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির দাবী, কেন্দ্র প্রাপ্য টাকা দেয় না বলেই কোষাগারে চাপ বাড়তে থাকে। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
বলে রাখি, বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা। স্বাধীনতার পর থেকে সেদেশে এমন চরম দুর্ভোগ কখনও হয়নি। আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সেদেশের নানান এলাকায়। কাগজের মন্দার কারণে বাতিল হয়ে পরীক্ষাও। অনেক সংবাদমাধ্যমের চ্যানেল বন্ধ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের তরফে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হচ্ছে সেই দেশকে।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!