গত সপ্তাহের বুধবার রাজ্যে বা বলা ভালো কলকাতা শহরে ঘটে যায় এক নাটকীয় ঘটনা। এদিন গরুপাচার কাণ্ডে সিবিআই তলব করেছিল বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। কলকাতায় এলেও এদিন নিজাম প্যালেসে হাজিরা না দিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন সটান এসএসকেএমে।
সেখানে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তিনি ভর্তি হন এসএসকেমের উডবার্ন ওয়ার্ডের ২১১ নম্বর কেবিনে। এখনও হাসপাতালেই রয়েছেন তিনি। সেই সময় জানা গিয়েছিল যে তাঁর হার্টের অল্প সমস্যা রয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের এই সিবিআই হাজিরা এড়িয়ে এসএসকেএমে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা।
বিরোধীদের সকলেই এই ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করতে থাকে অনুব্রতকে। হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক এই ঘটনা নিয়ে গানও বেঁধে ফেলেছিলেন। আর এরপরই মাঠে নেমেছিলেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। কবি জয় গোস্বামীর ‘বেণীমাধব’ কবিতার প্যারোডি বানিয়ে তিনি ‘অনুমাধব’ নামের একটি কবিতা পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই অনুমাধব বলে যে তিনি আদতে অনুব্রত মণ্ডলকে বাক্যবাণে বিঁধেছিলেন তা আর কারোর বুঝতে বাকি ছিল না। নিজের এই ব্যঙ্গাত্মক কবিতার মাধ্যমে তিনি অনুব্রত মণ্ডলের সিবিআই হাজিরা এড়িয়ে এসএসকেএমে ভর্তি হওয়া, বীরভূমে বালি, পাথর, কয়লার সিন্ডিকেট, এমনকি মমতা ও কুণালকে শানিয়েছিলেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছিল রুদ্রনীলের সি ভিডিও।
রুদ্রনীলের এই ভিডিওর জবাবে সেই একই কবিতার প্যারোডি বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। এবার পালা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের।
মদন মিত্রও সোশ্যাল মিডিয়ায় রুদ্রনীলের সেই কবিতার উত্তরে একটি কবিতা পোস্ট করলেন। না, তবে এটি কোনও প্যারোডি নয়। গোটা কবিতায় নানানভাবে রুদ্রনীলকে কটাক্ষ করে গিয়েছেন তিনি। কোথাও তিনি বলেছেন, “জল তোমার শুকিয়ে গেছে, রসও রসাতলে”।
বিজেপিতে রুদ্রনীলের যোগ দেওয়া নিয়ে কবিতার পরতে পরতে তাঁকে বিঁধেছেন তৃণমূল নেতা। মদনের কথায়, “কাজও গেছে/ লাজও গেছে/ লেজ তো গেছে কবে, /বিচারের বাণী/ আজ বিজেপির চালে/ কাঁদে নিভৃতে নীরবে”।
মদন মিত্রের এই পোস্ট শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গেই এখন ভাইরাল। তাঁর এই পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নেটিজেনদের।






