হাসপাতালের বর্ষীয়ান চিকিৎসককে হুমকি, ‘গাধার বাচ্চা’ বলে কুরুচিকর মন্তব্য, তৃণমূল নেতা তথা চিকিৎসক নির্মল মাজির বিরুদ্ধে মমতার কাছে অভিযোগ

ফের বিতর্কে জড়ালেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির তৃণমূল বিধায়ক ও চেয়ারম্যান নির্মল মাজি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬৪ বছর বয়সী এক চিকিৎসককে হুমকি দেওয়া ও কুকথা বলে অপমান করার অভিযোগ উঠল নির্মল মাজির বিরুদ্ধে। এই নিয়ে অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগ জানান মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। এদিকে আবার নির্মল মাজি পাল্টা অভিযোগকারী চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৬৪ বছরের এক বর্ষীয়ান চিকিত্‍সককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক তথা চিকিৎসক নির্মল মাজি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল, বৃহস্পতিবার এই ঘটনার কথা জানিয়ে অভিযোগকারী চিকিত্‍সক কুণাল পান মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও স্বাস্থ্যভবনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

রোগীর ভর্তি হতে কেন দেরি হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে যা তা বলে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে নির্মল মাজির বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে চিকিৎসক কুণাল পান জানিয়েছেন যে গত বুধবার দুপুর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ নির্মল মাজি এক রোগীকে ভর্তির জন্য পাঠান। ভর্তির কাগজপত্র লিখতে খানিকটা সময় লেগে যায়। সাড়ে ৩টের সময় নির্মল মাজি জরুরি বিভাগে এসে ভর্তি হতে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন।

অভিযোগকারী দাবী করেছেন যে নির্মল মাজি বলেন, কেন তাঁর দিকে তিনি ছাগলের মতো তাকিয়ে রয়েছেন। এমনকি তাঁর এও অভিযোগ, সিনিয়র অফিসার অন ডিউটিকে ‘গাধার বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেন নির্মল মাজি। এদিকে, এই ঘটনায় অভিযোগকারী চিকিৎসকের উপরেই পাল্টা দোষ দিয়েছেন নির্মল মাজি।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির তৃণমূল বিধায়ক ও চেয়ারম্যান নির্মল মাজি বলেন, “ওই ডাক্তার ঝিমোচ্ছিলেন। ভিতরে যে জুনিয়র ডাক্তাররা ছিল, তারা বই পড়ছিলেন। আমি ওদের রোগী কল্যাণ সমিতির মিটিংয়ে ডেকে পাঠিয়েছি”।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল সব্যসাচী দাস ঘটনার পর জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিত্‍সক কুণাল পানের সঙ্গে কথা বলেন। এই ঘটনায় নির্মল মাজির বিরুদ্ধে একটি চিকিত্‍সক সংগঠন সরব হয়েছে বলে খবর। অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস এর সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটা জানান, “ওই চিকিত্‍সককে অভিনন্দন জানাই। নির্মল মাজি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু সকলের সামনে চিকিত্‍সককে এই ভাষা প্রয়োগ করা ঠিক হয়নি”।

আরও অন্যান্য খবর