মাঝ রাস্তায় একদিকে স্ত্রী, অন্যদিকে প্রেমিকার টানাটানি, মাঝখানে পড়ে ব্যক্তি যা করলেন, হাসির রোল নেটপাড়ায়

দেখে মনে হবে যেন কোনও সিনেমা চলছে,। একদিকে হাত ধরে টানছে স্ত্রী আর অন্যদিকে টানছে প্রেমিকা। মাঝখানে পড়ে ব্যক্তি এমন কাজ করলেন যার জেরে জেল থেকে বেরোনোর পরও ফের সেই গিয়ে ঢুকতে হল জেলেই।

সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি রাজগঞ্জ ব্লকরেপ ভুটকির হাট এলাকার বাসিন্দা হাসান মহম্মদ। ২০০৯ সালে তিনি বিয়ে করেন সইদুল খাতুন নামের এক মহিলাকে। দুটি সন্তানও রয়েছে তাদের। কিন্তু বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই হাসান বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান। আর তিন মাস আগে তিনি প্রেমিকাকে বিয়ে করবেন বলে তাঁকে নিয়ে পালান।

কিন্তু এদিকে স্বামীকে এত সহজে ছেড়ে দেবেন না সইদুল। এই কারণে তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ এবং গ্রেফতার করে হাসান ও তাঁর প্রেমিকাকে। গত রবিবার থেকে তারা দুজনেই সংশোধনাগারে ছিলে।

গত শনিবার ছাড়া পান দু’জনে। এরপর তারা স্থির করেন তারা তারা সংসার করবেন। কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন হাসানের স্ত্রী সইদুলও। যখনই হাসানের প্রেমিকাকে তাঁকে নিয়ে বাপের বাড়ির দিকে যাচ্ছেন, সেই সময় কোলে বাচ্চা নিয়ে তাদের পথ আটকান সইদুল।

এরপর মাঝ রাস্তার মধ্যেই যা ঘটে গেল, তা সিনেমাকেও যেন হার মানাবে। হাসানের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকা তাঁর দু’হাত ধরে দু’দিক থেকে টানতে থাকেন। দু’জনের হাত থেকে বাঁচার জন্য সামনে একটি ট্র্যাফিক কিয়স্কে দৌড়ে যান হাসান। এমন এক দৃশ্য দেখে রাস্তায় ভিড় জমে যায় রীতিমতো। থানায় খবর যায়। আর এরপরই পুলিশ এসে স্ত্রী ও প্রেমিকা-সহ হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এই বিষয়ে সইদুল খান জানান, “আমার স্বামী জেলে ছিল। আজ ছাড়া পেয়েছে। আমি তাঁকে নিতে এসেছি। এখন ও আমার সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাবে”।

অন্যদিকে, হাসানের প্রেমিকার দাবী, “হাসানের সঙ্গে আমার সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক। মাস তিনেক আগে আমরা বিয়ে করব বলে ঠিক করি। দু’জনেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র রয়েছি। আমার পরিচয়পত্র বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে পারিনি বলে বিয়ে করতে পারিনি। কিন্তু আমরা তিনমাস ধরে একসঙ্গে রয়েছি। আমি চলে আসার পর আমার স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমি এখন বাড়ি ফিরে গেলে আমাকে ঘরে তুলবে না। আমরা দু’জনেই একসঙ্গে জেলে ছিলাম। আজ ছাড়া পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম। আমরা বিয়ে করব”।

আরও অন্যান্য খবর