কেকে’র আকস্মিক মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। কিছুক্ষণ আগেই যে মানুষটা হাজার হাজার মানুষকে এতটা আনন্দ দিল, তাদের মুখে হাসি ফোটাল, আর অনুষ্ঠান শেষে তাঁর নিজের মুখের হাসিটাই চিরতরে চলে গেল? এমন ঘটনা কিছুতেই মানা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠান শেষ করার পরই অকাল প্রয়ান ঘটে কেকে’র। সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলে সঙ্গীতশিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গোটা দেশ যেন কেকে’র মৃত্যুতে স্তব্ধ। কী আদৌ বলা উচিত, না যেন ভেবে পাচ্ছেন না কেউই। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই দাবী করেছেন যে এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীনই অস্বস্তি হচ্ছিল কেকে’র। এমন কিছু ভিডিও-ও শেয়ার করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই ভিডিওতেই দেখা যাচ্ছে যে স্টেজের উপরেই দরদর করে ঘামছেন কেকে। কখনও আবার স্টেজের পিছনে এসে জল খাচ্ছেন, রুমালে মুখ মুছছেন। একটা ভিডিওতে দেখা যায় মঞ্চে উপস্থিত একজন বলছেন, ‘কী গরম’। আর তাতে হেসে সম্মতিও জানান কেকে। একজনকে ডেকে লাইটও বন্ধ করে দিতে বলেছিলেন কেকে।
এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। কাল যারা নজরুল মঞ্চে ছিলেন, তারা দাবী করেছেন যে প্রেক্ষাগৃহে এতটাই বেশি লোক হয়ে গিয়েছিল যে একসময় মনেই হচ্ছিল যে এসি কাজ করছে না।
অনেকেই দাবী করেছেন, “কেকে-র মুখ দেখেই মনে হচ্ছিল ওর অস্বস্তি হচ্ছে। এই উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তদন্ত করে দেখা উচিত ঠিক কত দর্শক হাজির হয়েছিল স্টেডিয়ামে। কলকাতার হিউমিডিতে এত লোককে একসঙ্গে বদ্ধ জায়গায় ঢুকিয়ে ওরা কেকে-কে মেরে ফেলল”।
গতকাল অনুষ্ঠান শেষের পর রাত ৯টা নাগাদ মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে ধর্মতলার গ্র্যান্ড হোটেলে যান কেকে। সেখানেই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি। হোটেল কর্মীদের সেকথা জানান তিনি। হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে যে নিজের রুমে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন কেকে। দ্রুত তাঁকে সিএমআরআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূ্ত্রে খবর অনুযায়ী, কেকে’র ঠোঁটে চোট ছিল। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন যে গায়ক বমি করেছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হওয়ায় ময়নাতদন্ত হবে কেকে-র মরদেহের। তবে মনে করা হচ্ছে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ফলেই কেকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, নজরুল মঞ্চে কাজ করা এক কর্মী গতকালের অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানান, তিনি নজরুল মঞ্চে গত ১২ বছর ধরে কাজ করছেন। কিন্তু গতকালের মতো দৃশ্য তিনি এর আগে কখনও দেখেন নি। তাঁর কথায়, অনুষ্ঠানের প্রথম থেকেই খুবই ভিড় ছিল। আসন সংখ্যা যেখানে ২৪৮২, সেখানে ভিড় হয় ৮০০০। ৭টা দরজার মধ্যে ৫টাই খোলা ছিল বলে জানানো হয়। মঞ্চের দু’দিকেও লোক ভিড় করে ছিল। ওই কর্মী জানান যে এসি বন্ধ ছিল না। কিন্তু দরজা খোলা থাকার কারণে এসি কাজ করছিল না। উল্লেখ্য, কেকে’র এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে নানান বিতর্কের ঝড় উঠেছে চারিদিকে।





