এ মৃত্যু শোকের নয়, বরং আনন্দের। ডিজে, ব্যান্ড বাজিয়ে তুমুল নাচতে নাচতে শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করতে গেলেন পরিবারের লোকজন। কী! শুনতে অবাক লাগছে? কোনও সিনেমা নয়, বরং বাস্তবে এমনটাই হয়েছে তাও আবার এই বাংলাতেই।
ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে। জীবনের ইনিংসে ১০০ পার করেছেন বৃদ্ধা। সেঞ্চুরি করেই ময়দান ছেড়েছেন তিনি। তাই তাঁর এই মৃত্যুতে দুঃখ নয়, বরং বেশ সেলিব্রেশনের সঙ্গেই শ্মশানে যেতে দেখা গেল পরিবার-পরিজনদের।
রাজগঞ্জের পানিকৌড়ির দুর্বাগছ এলাকা। সেখানেই থাকতেন মালতি সরকার। তাঁর সঠিক বয়েসের হিসেব কেউ জানেন না। কেউ বলেন, তাঁর বয়স ১০৪ বছর। আবার কেউ বলেন ১১২। আবার কারও মতেম মালতি সরকারের বয়স হয়েছিল ১১৩ বছর।
অর্থাৎ, সেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন মালতিদেবী। তবে শতবর্ষ পার করলেও বেশ শক্ত সমর্থই ছিলেন মালতি সরকার। আত্মীয়, পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়ে এতদিন সুস্থ-সবলভাবেই সংসার করেছেন মালতীদেবী। তবে গত রবিবার বিকেলে মৃত্যু হয় তাঁর।
মালতীদেবী মরদেহ স্থানীয় শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে এক অভিনব দৃশ্য। দেখা যায়, কীর্তনের বদলে শ্মশানযাত্রীদের সঙ্গে বাজছে ব্যান্ড। ডিজে-ব্যান্ড বাজিয়ে গানের তালে নাচতে নাচতে ঠাকুমাকে চিরবিদায় জানান তাঁর নাতিরা। এই দৃশ্য দেখতে রাস্তায় ভিড় জমান বাসিন্দারা।
মালতীদেবীর পরিবার জানায় যে বৃদ্ধার নাকি শেষ ইচ্ছা এমনই ছিল। তাঁর নাতি পিন্টু সরকার ও ভোলা সরকার বলেন, “ঠাকুমার শেষ ইচ্ছে ছিল তাঁর শ্মশানযাত্রায় যেন কেউ মনখারাপ না করে। আর সেকারণেই এই আয়োজন”। বৃদ্ধার শেষ ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের সম্মতিতেই সবকিছু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।






