এসএসসি থেকে শুরু করে টেট নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বারবার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছে মমতা সরকার। এরই মাঝে ভাইরাল হল সিপিএমের লোকাল কমিটির প্যাডের কাগজে লেখা চাকরির সুপারিশপত্র। এই সুপারিশপত্রের ছবি এখন নানান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ছবি সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭।
টেট-সহ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীদের নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেছিলেন যে বাম আমলেও চিরকুটে লিখে চাকরি দেওয়া হত। আর এরপরই এই চিঠি ভাইরাল। এই চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাচরা লোকাল কমিটির প্যাডে এক নেতা এক কমরেডকে স্কুলে গ্রুপ ডি পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য অপর এক লোকাল কমিটির সম্পাদককে সুপারিশ করছেন। এই চিঠিটি লেখা ২০০৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর লেখা। সেই সময়ে ওই চিঠি লেখা হয়েছিল সদর ব্লকের চাঁদড়া লোকাল কমিটির সম্পাদক খগেন্দ্রনাথ মাহাতোকে।
এই চিঠিতে লেখা, “কমঃ আমি শ্রী মোহিতলাল হাজরা গ্রাম পালজাগুল, পোঃ জাগুল, জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর জানি ও চিনি, এবং খুব দুঃস্থ পরিবারের ছেলে, বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। একে আপনার কাছে পাঠালাম। ধেড়ুয়া অঞ্চল মাধ্যমিক বিদ্যালয় গ্রুপ ডি পদে যে লোক নেওয়া হবে সেই বিষয়ে যাতে একে নেওয়া যায় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি। পরে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নেব”। অভিনন্দন-সহ জনৈক আহাম্মদ লেখা রয়েছে।
এদিকে, যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা এই চিঠি সেই খগেন্দ্রনাথ মাহাতো এধরনের কোনও চিঠি কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “আমার কাছে এধরনের চিঠি নিয়ে কেউ কোনওদিন আসেনি। ওই চিঠির বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। ওই নামের কেউ এ তল্লাটে কোনও স্কুলে চাকরি করে না। তাছাড়া অনেকদিন আগেই আমি পার্টি ছেড়ে দিয়েছি”।
যদিও এই চিঠি প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ বলেন, “চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন শালবনির বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতোকে। কোনও আবেদন জানানোটা মোটেই অপরাধ নয়। যে কেউ জানাতে পারেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি, দুর্নীতি হয়নি সেটাই বিচার্য”। এই বিষয় নিয়ে সিপিএমকে তোপ দেগেছে তৃণমূল।
জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অজিত মাইতি বলেন, “ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। সিপিএম নেতারা কীভাবে চাকরিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন তা এই চিঠি থেকেই পরিষ্কার। এক লোকাল কমিটির প্যাড ব্যবহার করে অপর এক লোকাল কমিটির কাছে কোনও এক কমরেডকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে সিপিএম আমলে সিপিএম পার্টি অফিস থেকে চাকরি দেওয়া হত। ঘুঘুর বাসা ভেঙে যেতেই এখন আর্তনাদ করছে সিপিএম। যারা উপর থেকে নিচু পর্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা মানায় না”।





