গতকাল, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এমন এক ঘটনা ঘটে, যা আগে ঘটে নি। এদিন অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার, ও রাজ্যের মন্ত্রিসভাকে তোপ দাগেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Avijit Ganguly)। নির্বাচন কমিশনে বলে তৃণমূলের প্রতীক প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এবার এই নিয়ে পাল্টা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এখন গোটা রাজ্য উত্তাল। আজ, শুক্রবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজিরা দেন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন। বেআইনি নিয়োগ নিয়ে এদিন সওয়াল-জবাব হয়। এদিন রীতিমতো রাগে ফেটে পড়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভার দলনেতা মুখ্যমন্ত্রী আর লোকসভার দলনেতা প্রধানমন্ত্রী। আমি ইলেকশন কমিশনকে বলব তৃণমূলের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য”। দল হিসাবে তৃণমূলের মান্যতা প্রত্যাহার করার হুঁশিয়ারিও দেন বিচারপতি।
তাঁর এহেন মন্তব্যে যে রাজ্য সরকার একেবারে খুশি নয়, তা তো স্বাভাবিকই। এবার বিচারপতির উদ্দেশে বার্তা দিয়ে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এ ধরনের কথা আগে কখনও বিচারপতিদের মুখে শুনিনি। নির্বাচন কমিশনকে উনি বললেই তৃণমূলের প্রতীক বাতিল হয়ে যাবে এমন নয়। দেশে আইন রয়েছে”।
এখানেই শেষ নয়। চন্দ্রিমা আরও বলেন, “আইনের মধ্যে দিয়ে আমরা চলিনি এটা যদি কারও প্রশ্ন হয়, তা হলে জেনে রাখা ভাল যে আইনের মধ্যে দিয়ে দেশের প্রতিটা নাগরিরকেও চলতে হয়। তার মধ্যে বিচারপতিরাও পড়েন”।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে ধরণের পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাতে অতীতের একটি ঘটনাকে বারবার মনে করাচ্ছে। ইউপিএ জমানায় টু-জি দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এমন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, যার জেরে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারকে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হত। সেই সময় আদালতের এহেন পর্যবেক্ষণ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাল্টা তোপ দাগত কংগ্রেসও।
তবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তেমন ঘটনা কলকাতা হাইকোর্টে অন্তত নজির গড়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন আইনজীবী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিদের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। জীবনের দীর্ঘ সময় হাইকোর্টে কাটিয়েছি। কখনও কখনও আমার মনে হয়, এই সব মন্তব্য করার পর বিচারপতিরাও হয়তো ভাবেন যে এটা বলা ঠিক হয়নি। অন্যায় হয়েছে”।





