ফের সরকারি প্রকল্পে উঠে এল দুর্নীতির অভিযোগ। সরকারের ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থেকে। কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
জানা গিয়েছে, বিনপুর ২ ব্লকের সান্দাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সান্দাপাড়া গ্রামে দু’বছর আগে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প শুরু হয়। সেখানে পশু পালনের জন্য প্রায় ৯টির মতো সেড তৈরি করা হয়। মৎস্য চাষের জন্য খনন করা হয় জলাশয়। একই সঙ্গে বেশ কয়েক বিঘা জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয় ফলের বাগান। তবে সঠিক পরিচর্যা না থাকায় এই ছবিই ঠিক উল্টো হয়ে গেল।
অভিযোগ, পশু পালনের জন্য সেড করা হলেও এখনও পর্যন্ত সেখানে কিছুই এসে পৌঁছয়নি। এও জানা গিয়েছে যে তৈরি হওয়া সেডগুলি ভেঙে-ভেঙে পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে ভাঙা সেডগুলিতে সমাজ বিরোধীদের আখড়া চলে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা ঠিক এমনটাই অভিযোগ করছেন।
ব্লক থেকে চাষ করার যে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি দেওয়া হয়, তা সব বিক্রি হয়ে যায় বলে অভিযোগ। ফলের চাষ করা হলেও সেসব ঠিকঠাক পরিচর্যা করার অভাবে মরে যায়। সোলার পাম্প-সহ সোলার প্লেটও চুরি হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। রাতের অন্ধকারে সেখানে ম’দের আসর বসে বলেও অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি করায় এখন আসতে আসতে সব কিছুই ভেঙে পড়ছে। তবে শুধু গ্রামবাসীরাই নন, এই একই অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলিও। তাদের দাবী, তৃণমূল এভাবে প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করছে। নেতাদের শুধু পকেট গরম হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের প্রকল্প ও ঘোষণা করেন যাতে তৃণমূলের নেতাদের টাকা পেতে সুবিধা হয়।
এলাকার কংগ্রেস নেতা সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রী টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই ধরনের প্রকল্পের ঘোষণা করেন। এখানে হাঁস, মুরগী চাষের জন্য যা যা দেওয়া হচ্ছিল, তা প্রকল্পের আওতায় আসার আগেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা রাহালা হাঁসদা বলেন, “কাজ হয়েছে, মানুষ নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করছি”।






