দল থেকে বহিষ্কৃত, তাও তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে দলের সহকর্মীদের শুভেচ্ছা পার্থর, ফের দিলেন পাশে থাকার বার্তাও

নিয়োগ দুর্নীতিতে (SSC scam case) বিগত কয়েক মাস ধরেই জেল খাটছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। গ্রেফতার হওয়ার পরই তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করেছে তৃণমূল (TMC)। দলের সমস্ত পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তবুও বারবার দলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন পার্থ। এবারও তাই-ই হল। আজ, বৃহস্পতিবার সিবিআই মামলায় জেল হেফাজত শেষে আদালতে ঢোকার সময় তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস (foundation day) উপলক্ষ্যে নিজের সহকর্মীদের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। বলেন, “আমি সর্বপ্রথম ২০২৩-এর নববর্ষের তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে সমস্ত সহকর্মীদের শুভেচ্ছা জানাই। বেহালা আমার অঞ্চল। সেখানে বসবাসকারী সকল নাগরিকদের অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আমি কামনা করি জোকা থেকে তারাতলা মেট্রোরেল পরিষেবা যেন দ্রুত চালু হয়”।

এদিন সবুজ পঞ্জাবি, নীল জহর কোট পরে আদালতে হাজিরা দেন পার্থবাবু। এদিন তাঁর বাচনভঙ্গি অন্য দিনের তুলনায় বেশ সাবলীল ছিল। সিবিআইয়ের আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে যে সকল তথ্য প্রমাণ জোগাড় করেছেন সেগুলি নিয়ে আদালতে যাবেন তাঁরা। জামিন হবে কী না, সেই প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। সূত্রের খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী আজও তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা সামনে এনে জামিন চাইতে পারেন।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলেছে বৈ কী! বিরোধীদের দাবী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্বের কোনও সারবত্তা নেই। পুরোটাই সাজানো। যদিও বিরোধীদের দাবী খারিজ করে দেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।

কুণালের কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে যা বলেছেন তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। মন্ত্রিসভা এবং দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পার্থবাবুর কিছু কাজ দল ভাল চোখে নেয়নি তাই এই সিদ্ধান্ত। পার্থবাবু বয়স্ক মানুষ। দীর্ঘদিন একটি দলে ছিলেন। দল পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে কী বলছেন তার দায় দল নেবে না”।

বলে রাখি, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপর থেকে একাধিকবার তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রভাবশালী তত্ত্বকে সামনে রেখেই জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে পার্থর। আজ তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয় কী না, সেটাই এখন দেখার। যদিও ইডি-র মামলায় এখন ৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজত রয়েছে পার্থর।

RELATED Articles