গোষ্ঠীকোন্দলের জের! ‘দিদির রক্ষাকবচ’ কর্মসূচির আগে দলের কর্মীদেরই বেধড়ক মারধরের অভিযোগ তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে, অস্বস্তিতে শাসকদল

দলের কর্মীদেরই রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল (TMC) পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। এই আক্রান্তদের মধ্যে একজন হলেন পঞ্চায়েত সদস্যা রেখা সাউয়ের (Rekha Shaw) স্বামী ও বাকি দু’জন তৃণমূল কর্মী। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল।

আজ, বৃহস্পতিবার বুদবুদের গলসি ১ নম্বর ব্লকে রয়েছে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচি । সেখানে থাকতে পারেন রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ। কর্মসূচিকে সফল করতে নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে। এই কারণেই বুদবুদ বাজারে পতাকা লাগাচ্ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য রেখা সাউয়ের স্বামী রাকেশ সাউ ও তৃণমূলকর্মীরা।

কিন্তু তখনই ঘটে এক ঘটনা। সেই সময় আচমকাই তাঁদের উপর হামলা চালান বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডু ও তাঁর দলবল। রাকেশ সাউ ও তৃণমূলকর্মীদের রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম তিনজনকে তড়িঘড়ি মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্রের খবর, যে সময় ওই তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হয়, তার কিছুক্ষণ আগেই রেখা সাউ বৈঠক করেন পঞ্চায়েত উপপ্রধানের সঙ্গে। এই ঘটনার জেরে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই তিন দলীয় কর্মী গলসি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী। আর অভিযুক্ত উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডু এর আগে ফতোয়া জারি করেছিলেন যে জনার্দনের হয়ে কাজ করা যাবে না।

এই ঘটনার বিষয়ে উপপ্রধানের এহেন দাদাগিরির বিরুদ্ধে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় অভিযুক্ত উপপ্রধানের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এর আগেও রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডুর নামে নানান অভিযোগ এসেছে। কিছুদিন আগেই আবাস যোজনায় ঘর চাইতে গিয়ে বুদবুদের সুকান্ত পল্লীর বাসিন্দারা উপপ্রধানের হুমকির মুখে পড়েছিলেন।

সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটে নি। আর এরই মধ্যে উপপ্রধানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে দলকে। তবে অন্যদিকে আবার অভিযুক্ত উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডুর বলেন, “তৃণমূল ব্লক সভাপতি আমার নামে যাই বলুন না কেন, উনি দলে থেকে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। আমরা দলের পুরনো কর্মী। দলের জন্য কাজ করি। ওই ঘটনার সঙ্গে আমার যোগ নেই”।

RELATED Articles