বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (J P Nadda) আসছেন রাজ্যে। কিন্তু এর আগেই যেন বঙ্গ বিজেপিতে মিলল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আভাস। বিজেপির একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের (BJP WhatsApp group) একটি কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতী ঘোষ (Bharati Ghosh)। তাঁর কথায়, দিলীপ ঘোষই ‘উপযুক্ত’ ছিলেন। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তাহলে কী বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিজেপি নেত্রী?
গত ৩০শে ডিসেম্বর হাওড়া থেকে সূচনা হয় ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর। দলের জাতীয় মুখপাত্র ভারতী ঘোষের অভিযোগ, ভিআইপি তালিকায় নাম থাকলেও তিনি কার্ডই পাননি। সেখানেই ভারতী ঘোষ লেখেন, “দিলীপ ঘোষ যখন রাজ্য সভাপতি ছিলেন তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল প্রশংসনীয়। বহুবার তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে জানিয়েছেন। কখনও বলে দিয়েছেন অমুক অমুক কার্যকর্তার কাছে কার্ড রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজও পাঠিয়ে দিতেন কোথাও কোনও সমস্যা হত না”।
অভিযোগ উঠেছে যে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অগ্নিমিত্রা পালের একটি বক্তব্যের পর এমন মন্তব্য করেন ভারতী ঘোষ। যদিও অগ্নিমিত্রা পালকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ অবাকই হন। তাঁর কথায়, “না আমাকে মেসেজ করা হয়নি। আমি তো জানিই না এ বিষয়টা”। অন্যদিকে, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না”।
যদিও দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “দলের একটা সিস্টেম হয়েছে। কী হয়েছে সেটা দেখা উচিত। উনি আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা। দিল্লির যাঁরা অবজারভার আছেন, তাঁরা বলতে পারবেন খোঁজ নিয়ে”। আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন যে তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না।
তবে তৃণমূলের তরফে এই নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এদের তো নিজেদের মধ্যেই কোনও সংহতি নেই। ফলে রাজ্যের মানুষের মধ্যে সংহতি এনে ভোট নিয়ে যাবে কোনওদিনই হবে না। একজন অপরজনকে পছন্দ করেন না। দেখাই যাচ্ছে সব জায়গায় দ্বন্দ্ব, বিভাজন। নিজেরাই একত্রিত নয়, ভোট কীভাবে একত্রিত করবে”।
আবার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর এই বিষয়ে বক্তব্য, “কে দিলীপ ঘোষ, কে ভারতী ঘোষ এ নিয়ে কেন কথা বলি বলুন তো। ভারতী ঘোষই তো বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলের মা। এখন বলছেন দিলীপ ঘোষের জমানা ভালো ছিল”।





