‘কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ সাধারণ মানুষের জন্য, নিজের দলের সদস্যদের খরচের জন্য নয়’, আবাস যোজনায় দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যকে খোঁচা স্মৃতি ইরানির

রাজ্যে আবাস যোজনা (Awas Yojna) নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যরা ঘর পান নি অথচ অযোগ্যদের নাম উঠেছে আবাস যোজনার তালিকায়, এমনই অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় ঘুরে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। এবার আবাস যোজনায় কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা নিয়ে রাজ্যকে একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Iranis)।

আজ, শনিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবাস যোজনা দুর্নীতি নিয়ে স্মৃতি ইরানি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দেশের জন্য ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে। রাজ্য সরকার তা যেন সাধারণ মানুষের জন্যই খরচ করেন, নিজের দলের সদস্যদের জন্য যেন খরচ না করেন”।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সূচনা করে কেন্দ্র সরকার। এই প্রকল্পের লক্ষ্য একটাই, যাতে প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের মাথার উপরই ছাদ থাকে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় কেন্দ্র সরকার।

মোদী সরকার গরীব মানুষকে ঘর দিতে চান। এই কারণে চলতি আর্থিক বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার কোটি টাকায়।এরপরই বাংলায় এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির এহেন মন্তব্যকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “আবাস যোজনার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সার্ভে হয়েছিল ২০১৮ সালে। যাদের বাড়ি নেই, তাদের বাড়ির জন্য টাকা দেওয়ার বিষয় এটা। পশ্চিমবাংলায় তো সেগুলো ভালভাবেই রূপায়িত হচ্ছে। এসব না জেনে কথা বলে লাভ নেই”।

আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যে অভিযোগ উঠেছিল যে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ না হলে বা শাসক দলের সদস্য না হলে আবাসের তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ছে। আবার এমনও অভিযোগ উঠেছিল যে পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির নানান সদস্যের নাম উঠছে তালিকায় কিন্তু যারা প্রাপ্য, যারা ঘর পাওয়ার আসল দাবীদার, তারাই আবাস যোজনা থেকে বঞ্চিত হছেন। এই নিয়ে তদারকি করতে রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে আবাস যোজনার আওতায় ১১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪৮৮টি বাড়ি তৈরির জন্য অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল। সূত্রের খবর, এর মধ্যে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১১ লক্ষের বেশি বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে  আবাস তালিকার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ৩১ ডিসেম্বর ডেডলাইন দেওয়া হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রকে সম্প্রতি  একটি চিঠি পাঠায় রাজ্য। সেখানে বলা হয়, কেন্দ্রের তরফে প্রয়োজনীয় অর্থ না দেওয়া হলে ৩১ মার্চের মধ্যে আবাস যোজনার কাজ শেষ করা যাবে না।

আরও অন্যান্য খবর