শিক্ষক থেকে শুরু করে গ্রুপ সি-ডি নানান ক্ষেত্রে উঠেছে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ। কোথাও স্বজনপোষণ তো কোথাও টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে চাকরি। বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে একাধিকের চাকরি বাতিলও হয়েছে ইতিমধ্যেই। এই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে শাসক দলের একাধিক নেতার। এবার ফের রাজ্যের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে উঠল স্বজনপোষণের অভিযোগ।
একদিকে রাজ্যের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা যখন চাকরির জন্য রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন, সেই সময় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু নিজের কোটার চাকরি বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের আত্মীয়দের মধ্যে, এমনই অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা। তাদের দাবী অ্যাটেন্ড্যান্ট কোটাতে নিজের ছেলে-সহ একাধিক আত্মীয়কে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। এই কোটায় একজন মন্ত্রী বছরে তিন জনকে নিয়োগ করতে পারেন। মন্ত্রী নিজের পছন্দ অনুসারে নিতে পারেন এই তিন জনকে। এর জন্য কোনও পরীক্ষাতেও দিতে হয় না। পরে অ্যাটেন্ড্যান্টদের সরকারি চাকরি স্থায়ীও হয়। তবে বিরোধীদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করা হয়েছে মন্ত্রীর পরিবারের তরফে।
সন্ধ্যারানী টুডুর বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, মন্ত্রী নিজের কোটায় নিজের ছেলে ও নিকট আত্মীয়দের একের পর এক চাকরি দিয়েছেন। নিজের ‘অ্যাটেন্ড্যান্ট’ কোটা কাজে লাগিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের আরও দাবী, শুধুমাত্র সন্ধ্যারানী টুডুই নয়, অনেক মন্ত্রীই এভাবে নিজেদের লোককে সরকারি চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন।
এই বিষয়ে জেলা কংগ্রেস জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেছেন, “যা হয়েছে এতে নতুন কিছু নেই। মন্ত্রী দলের কারও কথা ভাবেন না সেটাই লক্ষ্যণীয়”। জেলা বিজেপি সভাপতি বিবেক রাঙ্গা বলেছেন, “সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে পুরুলিয়া জেলায় পদযাত্রা করছি আমরা। একে একে মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে শাসক দলের দুর্নীতির বিষয়গুলি। এই সরকারের সব থেকে বড় দুর্নীতিগুলির মধ্যে অন্যতম হল চাকরি দুর্নীতি। সন্ধ্যারানী টুডু একের পর এক চাকরি দিয়েছেন। সব ঠিক করে দিয়েছেন তাঁর স্বামী গুরুপদ টুডু”।
অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “যে কোনও মন্ত্রী নেতা এমএলএ এমপি সবার আত্মীয়-স্বজন, পাশের লোক আজকে এই সুবিধা নিয়েছে। টাকা তুলেছে। কেষ্ট মণ্ডলের মেয়ের গাড়িচালকের দুকোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। গাছ লাগিয়েও টাকা চুরি করেছে। সবে শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে এ রকম বহু তথ্য সামনে আসবে”।
তবে বিরোধীদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে তৃণমূল। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন যে তিনি এই বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। এই বিষয়ে সন্ধ্যারানী টুডুর কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও তাঁর স্বামী গুরুপদ টুডু জানান যে কোনও বেনিয়ম হয়নি। সব নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে।





