তৃণমূলে(TMC) যোগ না দেওয়ার ‘শাস্তি’। রাতের অন্ধকারে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করা হল বিজেপি কর্মীকে (BJP worker)। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর নাম দীপঙ্কর হালদার (Dipankar Haldar)। ঘটনাটি ঘটেছে কাকদ্বীপে (Kakdwip)। জানা গিয়েছে, দীপঙ্কর কাকদ্বীপ বিধানসভার বাপুজী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর মাইতিরচকের বাসিন্দা। বুথ সম্পাদক তিনি।
সূত্রের খবর, গত ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন দীপঙ্কর। সেই সময় তাঁকে রাস্তায় একা পেয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় চার দুষ্কৃতী। কাচের বোতল ভেঙে তা দিয়ে মাথার পিছনে ও হাতে আঘাত করা হয় দীপঙ্করকে। তাঁর চিৎকারে দুষ্কৃতীরা পালায় বলে অভিযোগ।
দীপঙ্করের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারাই তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান কাকদ্বীপ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। তিনদিন পর ছুটি হয় দীপঙ্করের। এরপরই হারুউড পয়েন্ট উপকূল থানায় অভিযোগ জানাতে যান দীপঙ্কর। কিন্তু বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। বেশ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দীপঙ্কর।
তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন ঘরছাড়া ছিলেন দীপঙ্কর ও ওই গ্রামের আরও বেশ কিছু বিজেপি কর্মীরা। মোটা টাকা জরিমানা দিয়ে তবে গ্রামে ঢুকতে পেরেছেন অনেকে, এমনটাই অভিযোগ। অনেকের চাষের জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতে পুলিশের টনক নড়ে। চাপে পড়ে দীপঙ্করের অভিযোগ নিতে বাধ্য হন তারা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে আক্রান্ত দীপঙ্করের অভিযোগ, “আমাকে মারার পর আমি নিচে পড়ে যাই। মোবাইলে লাইট জ্বলছিল। আমি ওইখানে একজনকে দেখতে পেয়েছিলাম। সে আমার গ্রামের ছেলে। গত বিধানসভা ভোট থেকে আমার উপর চড়াও হয়েছে। আমাকে বাড়ি ছাড়া হতে হয়েছিল। বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওরা হুমকি দিয়ে আমায় বলত তোর চিতা সাজিয়ে রেখেছি। আমি করি সেই কারণে”।
অন্যদিকে, এই ঘটনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে। তাদের দাবী, এটা বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা। তৃণমূল বুথ সভাপতি এই বিষয়ে বলেন, “ওদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা। তৃণমূলের ঘাড়ে এখন দোষ চাপাচ্ছে । তাই তৃণমূলকে বদনাম করে কোনও লাভ নেই”।





