প্রায় ৩৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে। ইডি-র দাবী, তাকে জেরা করে অনেক তথ্য সামনে এসেছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর নথিও। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবী, পুরসভা ও দমকলের নিয়োগেও দুর্নীতি হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে ৫০ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে অয়নের বিরুদ্ধে। আজ, সোমবারই তাকে পেশ করা হয় আদালতে। ইডি-র দাবী, এতটাই দুর্নীতি হয়েছে যে বাংলাকে একমাত্র এখন কৃষ্ণই বাঁচাতে পারে।
অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি জানতে পেরেছে, তাঁর সংস্থা এবিএস ইনফোজোন-এর মাধ্যমে রাজ্যের ৬০টিরও বেশি পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছে। অভিযোগ, সেই সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবী, প্রায় ৫,০০০ প্রার্থীর চাকরি নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। শুধুমাত্র পুরসভার গ্রুপ সি-ই নয়, মজদুর বা টাইপিস্ট পদেও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
সেই সব পুরসভার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কামারহাটি পুরসভা, হালিশর পুরসভা, পানিহাটি, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম পুরসভা। এমন অভিযোগও সামনে এসেছে যে দমকলের নিয়োগও এই সংস্থার মাধ্যমেই হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ইডি বক্তব্য, সরকারের ওপর থেকে নীচ দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে।
অয়ন শীলের আইনজীবীর দাবী, একজন অভিযুক্তর কথায় তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও টাকা উদ্ধার করতে পারে নি ইডি। অয়নের দাবী, নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য পুরসভা অনুমতি দিয়েছিল, সরকার অনুমোদিত কোম্পানি দ্বারা নিয়োগ করা হত। এরপরই ইডি পাল্টা আদালতকে বলে, “স্যর ওঁদের জিজ্ঞেস করুন ওএমআর শিটে দাগ দেওয়ার অনুমতি ছিল? সরকারের ওপর থেকে নীচ দুর্নীতিতে ভরা”।
এদিন ইডি-র আইনজীবী দুর্নীতি প্রসঙ্গে আদালতে বলেন, “এখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মতো অবস্থা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন যখন তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে যুদ্ধে করতে রাজি হচ্ছিলেন না, তখন কৃষ্ণ এসে অর্জুনকে বলেন, ‘যদা যদা ধর্মস্য……. যেখানে যেখানে অন্যায় অধর্ম হবে কৃষ্ণের আবির্ভাব হবে। এখানে একমাত্র কৃষ্ণই বাংলাকে বাঁচাতে পারে”।
বলে রাখি, এর আগে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইলে এত তথ্য মিলেছিল, যাকে ‘সোনার খনি’ বলে উল্লেখ করেছিল ইডি। এবার অয়ন শীলকে আদালতে পেশ করার পর ইডি জানায়, “আমরা সোনার খনির খোঁজ পেয়েছি। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, তাতে এই ব্যক্তির হাত গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে”।





