‘কোনও ছেলে হোলটাইমার হলে তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হত’, বাম জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি স্বীকার করে নিলেন প্রাক্তন কমরেড

এই মুহূর্তে নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) নিয়ে গোটা রাজ্য উত্তাল। শাসক দলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে নিয়োগ দুর্নীতিতে। এরই মাঝে তৃণমূলের তরফে বাম জমানায় (CPM regime) নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কাঁটাছেড়া চলছে। বাম আমলে চিরকুটের সুপারিশে চাকরি হওয়া নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে চলেছে তৃণমূল (TMC)। এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন প্রাক্তন বামনেতা তথা বর্তমান তৃণমূল নেতা রেজ্জাক মোল্লা (Razzak Molla)।

বাম আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন রেজ্জাক মোল্লা। বাম জমানায় মন্ত্রী ছিলেন তিনি। স্বীকারও করে নিলেন কিছু ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির কথা মেনে নিলেন তিনি। তবে এও জানালেন যে সেই চাকরি দেওয়ার মধ্যে কোনও টাকার লেনদেন ছিল না।

রেজ্জাক মোল্লার কথায়, এখনকার মতো দুর্নীতি বাম আমলে হয়নি। তিনি জানান, “বাম আমলে শিক্ষায় এত দুর্নীতি ছিল না। তবে ওদের চাকরি-টাকরির ব্যাপারে একটা ব্যাপার ছিল। কোনও ছেলেকে যদি হোলটাইমার করা হত, তখন ওর বউকে বা নিকট আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা হত। আমাদের জেলায় অন্তত এই চেষ্টা হয়েছিল সেটা আমি জানি”।

প্রাক্তন কমরেডের কথায়, “তখন আমার মনে হয়েছিল এটা ঠিক। একটা বুদ্ধিমান ছেলে হোলটাইমার হয়ে মাসে ২-৩ হাজার পাবে তাতে তো তার সংসার চলবে না। কাজেই সেখানে বিকল্প হিসাবে তাঁর নিকট আত্মীয় বা স্ত্রীকে চাকরি দিলে একটা সুরাহা হত”।

এদিন নিজের পুরনো দল নিয়ে বেশ কিছুটা ক্ষোভও উগড়ে দেন রেজ্জাক মোল্লা। তিনি বলেন, “একটা সময়ে সিপিএম ছিল আন্দোলন নির্ভর। পরে দেখলাম দলটা সরকার নির্ভর হচ্ছে। তাই সরে আসতে শুরু করলাম”।

তবে তিনি এও জানান যে পুরনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বামনেতারাই আজও তাঁর খোঁজখবর নেন। কিন্তু তৃণমূলের কেউ খুব একটা আসে না। রেজ্জাক মোল্লার কথায়, “এখন যে পার্টি আমি করি সেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ২০১৬ সালে ভাঙড় থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছিলাম। কিন্তু, আমার বাড়ি ক্যানিং পূর্বের দিকে, আর ভাঙড় অনেক দূর। তাই দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তা বলা এখন সম্ভব নয়। ওরাও খুব একটা আসে না। তবে বামফ্রন্ট আমলের কর্মীরা রোজই যোগাযোগ রাখে। দেখা করে যায়। নানা পরামর্শ চায়”।

আরও অন্যান্য খবর