ভোররাতে ভয়ানক হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল শীতলকুচিতে। তৃণমূল নেতা, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাল দুষ্কৃতীরা। ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ওই তৃণমূল নেতার নাম বিমল বর্মণ। কোচবিহার শীতলকুচির এসসি-এসটি সেলের ব্লক সভাপতি তিনি। তাঁর স্ত্রী ওই এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা। দুই মেয়ে ওই দম্পতির। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে তাদের বাড়ি থেকে প্রবল আর্তনাদ ভেসে আসে। প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন যে রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। আর মেঝেতে পড়ে রয়েছেন তৃণমূল নেতা ও তাঁর পরিবার।
তাদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তৃণমূল নেতা ও তাঁর স্ত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসা শুরুর পর এক মেয়ের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে একজন। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।
ঠিক কী কারণে এমন নৃশংসভাবে খু’ন, তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে ওই দম্পতির মেয়ে ইতি বর্মন পাশের গ্রামের যুবক বিভূতি রায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিল। এই সম্পর্কে তীব্র আপত্তি ছিল মেয়ের বাবা-মা দু’জনেরই। মেয়ের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তারা।
জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে পরিবারে এই নিয়ে অশান্তিও চলছিল। আর তাতে মেয়ের প্রেমিকের সমস্ত আক্রোশ গিয়ে পড়ে প্রেমিকার বাবা-মায়ের ওপর। আর সেই কারণেই তৃণমূল নেতার বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে খু’নের অভিযোগ উঠল মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, শুক্রবার কাকভোরে একটি কাঠারি নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে বিভূতি। অতর্কিতে হামলা চালাতে শুরু করে সে। প্রেমিকার মাকেই সবার আগে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় সে। এরপর কোপায় বাবাকে। বাধা দিতে গিয়ে আহত হয় প্রেমিকা ও তার দিদিও। একাধিকবার নৃশংসভাবে কোপানো হয়েছে বিমল বর্মন ও তাঁর স্ত্রী নিলীমাকে।
এক স্থানীয়ের কথায়, “হঠাৎ করেই ভীষণ চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলাম। আমরা প্রথমটায় বুঝতেই পারিনি। যখন দৌড়ে যাই, দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছেন ওরা। উদ্ধার করে তাড়াতাড়়ি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কয়েকজন আবার তাড়া করেছিলেন। ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে”।





