কিছুদিন আগেই আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই অভিযোগ গড়াল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। এবার তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হল। আগামী ২৬ এপ্রিল এই মামলার শুনানি রয়েছে।
বিগত একবছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়েছে। এই মামলায় জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক, উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এসবের মাঝেই সম্প্রতি টুইটে একটি ‘সুপারিশপত্র’ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
তাতে দেখা যায় তিনি ৬ জন তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদের নাম প্রকাশ করেছেন যারা চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতি করেছেন। তাদের মধ্যেই নাম ছিল অপরূপা পোদ্দারের। ২০১৭ সালে তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার তাঁর নিজস্ব প্যাডে ৭ জনের চাকরির জন্য সুপারিশ করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। সেই টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কথা বাকবিতণ্ডাতেও জড়ান অপরূপা-শুভেন্দু।
শুধু তাই-ই নয়, শুভেন্দুর এই টুইটের পর বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও একটি টুইট করেছিলেন। তাতেও দেখা গিয়েছিল, অপরূপার সাংসদ প্যাডে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নামের তালিকা সুপারিশ করে পাঠিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। গ্রু সি-র জন্যও নাকি তালিকা পাঠিয়েছিলেন অপরূপা।
এবার সেই অভিযোগ আর শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় আটকে থাকল না। অপরূপার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা হল হাইকোর্টে। অভিযোগ, ওই তালিকায় প্রার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ২৬ এপ্রিল এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। অপরূপার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠতেই তিনি দাবী করেছিলেন যে তাঁকে বিজেপিতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অধিকারী। কিন্তু তিনি দলবদল করেন নি বলেই তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবী জানান অপরূপা।
প্রসঙ্গত, এই তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মামলাতেই দমকলে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গত শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত তাপসকে সাড়ে চোদ্দ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।





