‘তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল’, বিস্ফোরক দাবী নওশাদের, ‘নামটা শুধু বলুক’, পাল্টা জবাব কুণালের

তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। বায়রনের মতোই তাঁকেও নাকি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য টোপ দেওয়া হয়েছিল। এক-দুই নয়, কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, কাজ না করতে দেওয়ারও ভয় দেখানো হয়েছিল, এমনই বিস্ফোরক দাবী করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

বায়রন বিশ্বাস তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এর জেরে সাগরদিঘি মডেল ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “দলবদলের ২টো প্রধান কারণ থাকতে পারে, একটা হল লোভ, অন্যটা ভয়ভীতি। বায়রনকে কীভাবে দলে নিয়েছে জানি না। হয়তো ভয় দেখিয়ে দলে নিয়েছে কারণ আর্থিকভাবে ও স্বচ্ছল। ভয়ের কাছে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। এখন তিনি বলছেন শাসকদলের সঙ্গে না থাকলে উন্নয়ন করা যাবে না। এটা বোকা বোকা কথা। এসব কথা বলে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছেন”। তাঁর কথায়, দিনের শেষে সাগরদিঘির মানুষের রায়কে মর্যাদা দিল না তৃণমূল।

নওশাদের দাবী, শাসকদল তাঁকেও নানাভাবে ভাঙানোর চেষ্টা করেছিল। প্রলোভন দেখিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কোনওভাবেই সেই ফাঁদে পা দেন নি তিনি। নওশাদের কথায়, “তৃণমূলের কাছে কোনওভাবেই আত্মসমর্পণ নয়। ২০২৬ সালে যদি আমি ভোটে দাঁড়াই, তাও দলবদলের প্রশ্ন আসবে না”।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমাকে দলে টানার জন্য ভয় এবং লোভ দুটোই দেখিয়েছে। ১-২ কোটি নয়, অনেক টাকার টোপ এসেছিল তৃণমূলের কাছ থেকে। পাশাপাশি কখনও ভাল কোনও পদ বা মন্ত্রিত্বের টোপও দেওয়া হয়েছিল।জেল খাটিয়েও আমাকে দমাতে পারেনি তৃণমূল, নওশাদ দলবদল করবে না, এটাই আমার কমিটমেন্ট”।

নওশাদের এই দাবী সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, “এই ধরনের প্রস্তাব গিয়ে থাকলে আগে বলেননি কেন? কে প্রস্তাব দিয়েছে নাম বলুন”। এর পাল্টা জবাব দিয়ে নওশাদ বলেন, “ আমি নাম বলে দিলে আপনার চাকরি থাকবে না”।

RELATED Articles