দলের সঙ্গে সংঘাত তো চলছিলই বেশ কিছুদিন ধরেই। ব্লক সভাপতিকে সরাসরি বড় চোর বলেও দেগেছিলেন। এবার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বলাগড়ের সেই তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তবে তিনি এও জানান যে বিধায়ক পদটা তিনি ছাড়ছেন না কারণ ওটা ছেড়ে দিলে তো খাওয়া জুটবে না। বিধায়কের ভাতা থেকেই দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটে তাঁর।
ফেসবুক পোস্টে মনোরঞ্জন ব্যাপারী লিখেছেন যে তিনি জেলা তৃণমূলের পঞ্চায়েত নির্বাচনের কমিটির সদস্য ও রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিধায়ক আরও লিখেছেন, তিনি যে চাকরি করতেন, একুশের ভোটে দাঁড়ানোর সময়ে তা ছাড়তে হয় তাঁকে। এরপর দু’বছর ধরে পঞ্চাশবার ছোটাছুটি করেও পেনশন চালু হয়নি বিধায়কের। এমনকি গ্র্যাচুইটির টাকাও পাননি বলে জানান মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, পেনশন চালু হলেই তিনি নিজের বিধায়ক পদটাও ছেড়ে দেবেন।

উনিশের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বলাগড় বিধানসভায় বেশ বড় ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। গেরুয়া শিবির ভেবেই নিয়েছিল যে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ওই বিধানসভা তাদের দখলেই যাচ্ছে। তবে দলিত সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে প্রার্থী করে বড় চমক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিক্সা চালিয়ে বেশ প্রচার করেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। আর তাতে বেশ সাড়াও মেলে।
তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর। তিনি কোনওভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না, এটাই তাঁর মোদ্দা কথা। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। জিরাট কলেজ থেকে শান্তনুর ছবি খোলান মনোরঞ্জন। সেই শান্তনু এখন নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে জেলবন্দি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট দেওয়া নিয়েও তাঁর সঙ্গে সংঘাত চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর লড়াই চালাতে পারলেন না মনোরঞ্জন। রাজনীতি তাঁর জন্য, নিজের পোস্টের শেষে এমনটাই আক্ষেপ করলেন বলাগড়ের বিধায়ক।






