রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই হবে পঞ্চায়েত ভোট। তবে এই রায়ে মোটেই খুশি নয় শাসকদল। আর তা আরও বেশি স্পষ্ট হল কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কথায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এলে রাজ্যবাসী কী কী সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন, তার ব্যাখ্যা দিলেন মদন।
বেলঘড়িয়ার এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নানান বিষয়ে মন্তব্য করেন মদন মিত্র। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘর জামাই করে দিন। এখানেই থাকবে। শেষ অবধি আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-স্বাস্থ্য সাথীর টাকা পাওয়া যাবে না। কারণ সব টাকা ওরাই খেয়ে নেবে”। ব্যাঙ্গের সুরে তিনি বলেন, “ওরা আবার গোটা-গোটা খায়। আস্ত-আস্ত মাংস খায়। এত বড় বড় চেহারা”।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বেশ টালবাহানা চলেছে অনেকদিন ধরেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য পুলিশের উপরই আস্থা রেখেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তাতে শান্তিপূর্ণ ভোট হবে না, তা আশঙ্কা করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবী নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা।
গত ১৫ই জুন কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে রাজ্যের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে মোতায়েন করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে দেখার আবেদন জানানো হয় কমিশনের তরফে। হাইকোর্ট এরপর নির্দেশ দেয় যে রাজ্যের সব জেলাতেই আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে হাইকোর্টের ওই রায়কেই বহাল রাখে শীর্ষ আদালত। এরপর কমিশন জানায়, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হিসাবে বাংলায় মোট ১৮৯টি অতি স্পর্শকাতর এবং স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে। রাজ্যের ৬২ হাজার বুথের মধ্যে যা খুবই নগণ্য। সেই কারণে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই।
কমিশনের তরফে জানানো হচ্ছে, সব জেলার জেলাশাসকদের বলা হয়েছিল স্পর্শকাতর বুথের ম্যাপিং করতে। তাঁরা যে হিসাব পাঠিয়েছেন, তারই সমষ্টি হল ১৮৯। তবে আদালত যেহেতু সব জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, সেই কারণে সেই নির্দেশের মর্যাদা দিতে প্রতি জেলায় গড়ে ১ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়েছে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার