পঞ্চায়েত নির্বাচনের মহারণে কটা আসন পেতে পারে তৃণমূল? শাসক দলকে ধাক্কা দিতে পারবে কি বাম-বিজেপি? দেখে নিন সমীক্ষা কি বলছে!

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মহাযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বাংলা জুড়ে।‌ দীর্ঘ টাল বাহানা শেষে এবার হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। যথারীতি সমস্ত রাজনৈতিক শিবিরেই সাজো সাজো রব। কে জিতবে কে হারবে কে কটা আসন পাবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আসলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল‌ই ফায়সালা করে লোকসভা নির্বাচনের।

আসলে শহর নয় বরং গ্রাম বাংলার ভোট জিতে নেওয়াটাই আসল লক্ষ্য থাকে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির কাছে। আর বলা বাহুল্য গ্রাম বাংলায় কিন্তু অপ্রতিরোধ্য তৃণমূলের দাপট। আর সেই গ্রাম বাংলায় তৃণমূলকে হারানো অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির কাছে কঠিন হলেও অবাস্তব নয়। বরং চেষ্টা করাই যায়।

আবারও বাংলার রাজনীতির মানচিত্রে নতুন করে ফিরছে বাম। বিজেপি শিবিরকে পিছনে ফেলে আবারও বঙ্গ রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বাম শিবির। এবারের পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলেও হয়ত কিছুটা হলেও পার্থক্য দেখা যেতে পারে। আসলে এই বছর ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ভীষণ রকম ভাবে আশাবাদী বাম শিবির।

বলা বাহুল্য বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে না পারলেও গত লোকসভা নির্বাচনে কিন্তু তৃণমূলের মনে ভয়ের সঞ্চার করেছিল বিজেপি। বাংলার বুকে শূন্য থেকে শুরু করা বিজেপি লোকসভায় ১৮টি আসন জিতে নিয়ে শাসকদলকে কার্যত নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল। আর তাই পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে তড়িঘড়ি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের দ্বারস্থ হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মুখ্যমন্ত্রীকে খালি হাতে ফেরান নি পিকে। বিধানসভা নির্বাচনে পর্যদুস্থ হয় বিজেপি‌। আবারও মুখ্যমন্ত্রীর গদি ছিনিয়ে নেন মমতা ব্যানার্জি।

যদিও সেই লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে হয়েছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেখানেই শাসকদলের দুর্নীতি, দৌরাত্ম্য, বাংলা জুড়ে খুনোখুনি ভালো চোখে মেনে নেয়নি গ্রাম বাংলা। আর যার ফল হাতেনাতে পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসক দলকে তিরস্কৃত করেছিল জনমত।

ইতিমধ্যেই বাংলা জুড়ে রক্তপাত শুরু হয়ে গেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেই সঙ্গে রয়েছে আর্থিক তছরূপ, শিক্ষা দুর্নীতি! শাসকদলের এই সমস্ত অপরাধ কি তৃণমূলকে সরিয়ে বাম-বিজেপি শিবিরের হালি পানি ফেরাতে সাহায্য করবে? সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বাংলার ২০টি জেলা পরিষদের মধ্যে শাসক দলের দখলে যেতে চলেছে ১৫টি। অর্থাৎ আসন হিসেবে ৯২৮টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে তৃণমূল পাচ্ছে ৬৮৪টি। বিজেপি পেতে পারে ১৭৫ থেকে ২৭৫টি। আর বাম-কংগ্রেস পেতে পারে ৫৭ থেকে ১২০টি আসন।

RELATED Articles