জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা, তা সত্ত্বেও গুলি-বোমার বর্ষণ ভাঙড়ে, ঘটনায় মমতার পুলিশকেই দায়ী করলেন খোদ তৃণমূল নেতা

পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ভাঙড়ে। গোটা ভোটপর্ব জুড়ে দফায় দফায় একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে এই এলাকা। সেই কারণে এই এলাকায় জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। কিন্তু তা সত্ত্বেও অশান্তি থামে নি ভাঙড়ে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই এই এলাকায় চলছে বোমাবাজি, গুলিবর্ষণ। এই ঘটনায় এবার মমতার পুলিশকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন শওকত মোল্লা।

ভোট পর্ব মিটলেও ভাঙড় শান্ত হয়নি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও সেখানে চলছে গোলাগুলি, বোমাবাজি। গুলিবিদ্ধ হয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এক তৃণমূল কর্মী। তাঁর স্ত্রীয়ের দাবী, এই ঘটনা ঘটিয়েছে আইএসএফ। তবে আইএসএফের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা।

কী বললেন তিনি এই ঘটনার বিষয়ে?

এদিন হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শওকত মোল্লা বলেন, “ভাঙড়ে কেউ নিরাপদ নন। আরাবুল, হাকিমুল কেউ নিরাপদ নন। যেভাবে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও বোমা-গুলির বৃষ্টি চলছে, তাতে আর বলার কিছু নেই। সাধারণ মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ কঠোর পদক্ষেপ করুক”।

তিনি আরও বলেন, “১৪৪ ধারা উঠলে, আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন জারি রাখব। তিন জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছে। আর আইএসএফের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। বিডিও ভয়ে অফিসে আসছে না”।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা স্বীকার করে নেন তৃণমূল নেতা

এদিন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা স্বীকার করে শওকত মোল্লা বলেন, “এটা তো অস্বীকার করার জায়গা নেই যে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নেই। পুলিশের একটা অংশ তো নিষ্ক্রিয়। ১৪৪ ধারার মধ্যে কীভাবে গুলি চলে”?

তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “এর পিছনে বিজেপির সম্পূর্ণ মদত রয়েছে। এই কথাটা বারবার বলছি। ওরা রাজনৈতিকভাবে হেরে গিয়েছে। তাই বাংলাতে ৩৫৬ ধারা জারি করার জন্য এই ধরনের গেম করছে”। এদিন শওকত মোল্লার পাশাপাশি আরাবুল ইসলাম, কাইজার আহমেদ, হাকিমুল ইসলাম, আহসান মোল্লারাও গিয়েছিলেন হাসপাতালে। আবার আরাবুল ইসলামও প্রাণনাশের আশঙ্কাও করছেন।

RELATED Articles