পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসতে থাকে নানান হিংসার ঘটনার খবর। ভোটের দিন ও ভোট গণনার দিন এই হিংসা ও অশান্তি চরম আকার নেয়। ভোট হিংসায় প্রাণ বলি হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের। সেই হিংসার প্রতিবাদেই আজ, বুধবার মহামিছিল করে বিজেপি। আর এই মিছিল থেকে বিডিও ও ওসিদের হুঁশিয়ারি শানান বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
বুধবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে মহামিছিল করে গেরুয়া শিবির। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষ। পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি।
কী বললেন এদিন দিলীপ ঘোষ?
এদিন মঞ্চে উঠে প্রথম থেকেই শাসক দলের প্রতি কটাক্ষ ছুঁড়তে থাকেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটের নামে রাজ্যজুড়ে প্রহসন হয়েছে। আমাদের কর্মীদের মনোনয়ন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বহু কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গোটা বিষয়টি কোর্টে জানিয়েছি। বিচার চলছে। জনগণ আমাদের পাশে রয়েছে। জনগণকে পাশে নিয়ে আমরা পথে নেমেছি”।
এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “ভোটকেন্দ্রে সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লুঠ করা হয়েছে। আমাদের কর্মীদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিডিও-র নেতৃত্বে ভোট লুঠ হয়েছে। ওসি পর্যন্ত ভোট লুঠে সাহায্য করেছে। এই সমস্ত ওসি, বিডিও-দের চাকরি খেয়ে আমরা ভিখারি করে ছাড়ব, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তাই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নেমেছি। এর জন্য যতদূর যেতে হয় যাব”।
২১শে জুলাই নিয়ে মন্তব্য দিলীপের
এদিনের এই মঞ্চ থেকে একুশে জুলাইয়ে তৃণমূলের সমাবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ। বলেন, “দু-দিন পরে এখানে একটা নাটক হবে শহিদ দিবসের নামে। সারা বছর রাজ্যজুড়ে লোককে মারা হয়, আর ২১ জুলাই শহিদ দিবসের নামে নাটক করা হয়। এখানে লোক আসবে না। তাই পুলিশ আর সিভিক পুলিশ ফোন করে জানছে, কত বাস লাগবে, কত লোক আসবে। মেদিনীপুরের কাউন্সিলারকেও ফোন করে কত বাস লাগবে জানছে পুলিশ”।
কী বললেন শুভেন্দু?
দিলীপ ঘোষের পর এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই বিজেপির মিছিলে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে শুভেন্দুর তোপ, “যদি বুকের পাটা থাকে তো এই মিছিল আটকে দেখাও”।





