একুশের মঞ্চ থেকে মণিপুরে মহিলাদের অত্যাচারের লজ্জাজনক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছুক্ষণ পরই দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার মহিলাদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, বাংলার অবস্থাও মণিপুরের মতোই। বাংলাতেও মহিলাদের উপর চলছে নির্মম অত্যাচার।
কী বললেন এদিন লকেট?
বিজেপি সাংসদের কথায়, “মণিপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। খুব কষ্ট হচ্ছে। যে ভিডিয়ো সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত কষ্টকর। আর পঞ্চায়েত নির্বাচনের নাম করে যে খুন-সন্ত্রাস-মহিলাদের ওপর নির্যাতনের নির্বাচন হল, তাও বাংলার একটা চিত্র”।
এরপরই লকেট বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বারবার মহিলাদের নির্যাতিত হতে হয়। ৮ জুলাই পাঁচলাতে এক মহিলা প্রার্থীকে বুথের ভিতর ঢুকে বিবস্ত্র করে, গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া হয়েছে। ডোমজুড়ে তৃণমূলের প্রার্থীর কাউন্টিং রুমের মধ্যে ঢুকে অত্যাচার করা হয়েছে। এফআইআর হয়েছে দুটি ক্ষেত্রেই। আসলে ওখানকার কোনও ভিডিও হয়নি। কেউ ভিডিও করতে পারেননি। আসলে সেখানে তো কেউ ঢুকতেই পারেননি। কারণ সেখানে বন্দুক নিয়ে সকলে ছিলেন। গণনাকেন্দ্রের মধ্যেই মহিলার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ন’গ্ন করা হয়েছে। ওর কোনও বিচার হবে না”।
তাঁর কথায়, “বাংলায় ভিডিও করার মতোও পরিস্থিতি নেই। এখানকার পরিস্থিতি মণিপুরের চেয়েও খারাপ। ভিডিও ভাইরাল হলে তবেই কী আমরা বলব? মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হয়েও চুপ করে রয়েছেন”।
পার্কস্ট্রীট ধ’র্ষ’ণকাণ্ডের কথাও তোলেন লকেট
এই প্রসঙ্গেই ২০১২ সালের পার্কস্ট্রিট গণধ’র্ষ’ণকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন বিজেপি সাংসদ। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তো তাতেও বলেছিলেন ছোটো ঘটনা। মহিলাদের সঙ্গে কিছু হলেই বলে দেন প্রেম ছিল। প্রেম থাকলেই কি নির্যাতিত হতে হবে? আমরা কোথায় যাব”? ফের হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠেন লকেট।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সদ্য গঠিত ইন্ডিয়া জোটের তরফে শীঘ্রই প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে মণিপুরে। মণিপুরের সঙ্গে বাংলার তুলনা টানার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি। মণিপুরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল পাঠানো নিয়েও কটাক্ষ করে লকেট বলেন, “আগে বাংলা সামলান, তারপরে মণিপুরে যাবেন”।






