৫ টাকা কম পড়ায় বচসা, বেধড়ক মারধর ক্রেতাকে, ম’দ কিনতে গিয়ে নৃশংসভাবে খু’ন হলেন ব্যক্তি, তুমুল উত্তেজনা খাস কলকাতায়

৫ টাকা কম পড়া নিয়ে শুরু হয় বচসা। সেই বচসা এমন পর্যায় পৌঁছয় যে এর জন্য খু’ন হতে হল ক্রেতাকে। ম’দ কেনাকে কেন্দ্র করে ক্রেতাকে পিটিয়ে খু’নের ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে ঢাকুরিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকা। বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ জনকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ওই ব্যক্তির নাম সুশান্ত মণ্ডল। ঢাকুরিয়ার পঞ্চাননতলার বাসিন্দা তিনি। বছর পঁয়তাল্লিশের সুশান্ত পেশায় গাড়িচালক। গতকাল, রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ লেক থানা এলাকার ঢাকুরিয়া সেতু সংলগ্ন একটি দোকানে ম’দ কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। ওই ম’দের দোকানের সিসিটিভি-তে যে দৃশ্য দেখা গিয়েছে, তা ভয়ঙ্কর।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সুশান্ত। তাঁর সঙ্গে হাত নেড়ে কথা বলতে দেখা যায় ম’দের দোকানের এক কর্মচারীকে। গড়িয়াহাট রোডের ওই ম’দের দোকানের সামনে দাঁড়ানো সুশান্তকে ঘাড় ধরে টেনে আনেন ওই দোকানি। তারপরেই এলোপাথাড়ি মার শুরু হয়। মারের চোটে পড়ে গেলে সুশান্তের মাথা ঠুকে দেওয়া হয়। সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি।

সুশান্তকে তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মারধরের জেরে সুশান্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়রা ওই ম’দের দোকানে ভাঙচুর চালান। দোকান থেকে ম’দের বোতল বার করে রাস্তার ফেলে ভেঙে দেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আশপাশের একাধিক থানার পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে ঘিরে ধরে তখন বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, দোকানের পিছনে একটি ঘরে লুকিয়ে পড়েন দোকানের কর্মীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত প্রবীর দত্ত ওরফে টিঙ্কুকে গ্রেফতার করা হয়েছে । সঙ্গে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবী, যিনি ম’দের দোকানের মালিক, তিনি এখনও গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

সুশান্তর পরিবারের লোকেরা জানাচ্ছেন, মাত্র ৫টাকার জন্য মারামারি হয়। দোকানের সামনে রক্তাক্ত দেহ পড়েছিল সুশান্তের। ৫ টাকা কম পড়েছিল বলে তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে রয়েছেন। সুশান্তের ছেলের বয়স চোদ্দো বছর। লেক হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সে। জানা গিয়েছে, সুশান্ত এক চিকিৎসকের গাড়ি চালাতেন।

মৃতের এক আত্মীয় বলেন, “জামাইবাবু কী এমন অপরাধ করলেন যে তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল? আমরা দোষীদের শাস্তি চাই”। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

RELATED Articles