এমনিতেই নিয়োগ দুর্নীতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। এবার নতুন করে এক গ্যাঁড়াকলে পড়লেন তিনি। অতীতে যোগেশ চন্দ্র ল’ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। অভিযোগ, কোনও নিয়ম নে মেনেই সেই সময় অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেছিলেন মানিক। সেই অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। এই মামলা ওঠে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে। মানিক ভট্টাচার্য যোগেশ চন্দ্র ল’ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যে বেতন পেয়েছেন, তা ফিরিয়ে নেওয়ার দাবী জানান মামলাকারী। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিলেন যে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে মানিক যা বেতন পেয়েছেন, সেই সব বেতন তাঁকে ফেরত দিতে হবে।
আর কী নির্দেশ দেন বিচারপতি?
এখানেই শেষ নয়, এদিন যোগেশ চন্দ্র ল’ কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ সুনন্দা গোয়েঙ্কা ও এক অধ্যাপক অচিনা কুণ্ডুকেও সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আদালতের কড়া নির্দেশ, এবার থেকে তারা আর কলেজে ঢুকতে পারবেন না।
জানা গিয়েছে, আদালত আপাতত যোগেশ চন্দ্র ল’ কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে। আগামীকাল, শুক্রবার ওই কলেজের পরিচালন সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্বাচনেও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে বলে জানা গিয়েছে।
বলে রাখি, মানিকের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারী অভিযোগ করেছিলেন, কোনও রকমের নিয়ম না মেনেই যোগেশ চন্দ্র ল’ কলেজের অধ্যক্ষ পদে বসেছিলেন মানিক ভট্টাচার্য। মামলাকারী কথায়, কোনও কলেজের অধ্যক্ষ হতে গেলে আগে তাঁকে ১৫ বছর অধ্যাপনা করতেই হয়। কিন্তু তেমন কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না মানিকের। সেই মামলাতেই আজ মানিককে অধ্যক্ষ হিসেবে পাওয়া সমস্ত বেতন ফেরত দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।





